সিরাজগঞ্জ পৌরসভার ধানবান্ধি মহল্লার জি.এম. হিলালি রোড, জেসি রোড, বি.এল. স্কুল রোডসহ আশপাশের এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির পানি বাড়ির আঙিনা পেরিয়ে অনেক ক্ষেত্রে ঘরের ভেতরেও প্রবেশ করায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জেসি রোড এবং বিআইডব্লিউটিএ কার্যালয়ের সামনের পুকুর ভরাট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি ধারণ ও স্বাভাবিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। একই সঙ্গে মান্নান তালুকদার এমপির মোড় থেকে নবদ্বীপ পুল হয়ে কাটাখালী পর্যন্ত পানি নিষ্কাশনের ড্রেনের বিভিন্ন স্থানে মাটি, পলি ও আবর্জনা জমে থাকায় পানি সহজে প্রবাহিত হতে পারছে না। ফলে অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, জি.এম. হিলালি রোড, জেসি রোড এবং মান্নান তালুকদার এমপির মোড় এলাকায় ড্রেন নির্মাণের সময় পানির লেভেল (ঢাল) সঠিকভাবে নির্ধারণ করা হয়নি। এতে পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশিত হওয়ার পরিবর্তে উল্টো ধানবান্ধি মহল্লার দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতি না থাকলেও সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে এবং বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ছে।
বাসিন্দারা জানান, জলাবদ্ধতার কারণে শিশু, বয়স্ক ও শিক্ষার্থীদের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নোংরা পানি দীর্ঘ সময় জমে থাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং মশার উপদ্রব বেড়ে স্বাস্থ্যঝুঁকিও সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় সড়কের ক্ষতি হচ্ছে এবং যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে।
স্থানীয়দের মতে, শুধু সাময়িকভাবে ড্রেন পরিষ্কার করলেই এ সমস্যার সমাধান হবে না। পুরো পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারিগরি মূল্যায়ন করে ড্রেনের লেভেল পুনঃনির্ধারণ, ভরাট হওয়া জলাধারের বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে কাটাখালী পর্যন্ত পানি প্রবাহ নির্বিঘ্ন রাখতে ড্রেনের সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা অপসারণের দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সিরাজগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক সাহাদত হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
দীর্ঘদিনের এ জলাবদ্ধতা সমস্যার দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সিরাজগঞ্জ পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে ধানবান্ধি মহল্লার বাসিন্দারা দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন।
জলিলুর রহমান জনি
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি