জান্নাতুল ফেরদৌস, মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার:
কেরানীগঞ্জের রোহিতপুর বাজার থেকে পুরান সোনাকান্দা হয়ে আব্দুল্লাহপুর যাওয়ার প্রধান সড়কটির বেহাল দশা এখন সাধারণ মানুষের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় রাস্তাটির পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে ডোবার মতো রূপ নেয়, আর শুষ্ক মৌসুমে উড়তে থাকে ধুলাবালি। ফলে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।
সড়কটির বেহাল দশার কারণে নিয়মিতই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। বিশেষ করে রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং মোটরসাইকেল চালকেরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকছেন। ভাঙা রাস্তার ঝাঁকুনিতে অসুস্থ রোগী ও গর্ভবতী নারীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়া স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা সময়মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারছে না।
রাস্তার ভাঙা গর্তে পড়ে প্রতিনিয়ত মানুষ আহত হচ্ছে এবং যানবাহন বিকল হওয়ার ফলে নষ্ট হচ্ছে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ। সড়কটির অবস্থা এতটাই খারাপ যে, সামান্য বৃষ্টি হলেই খানাখন্দ আর কাদায় পরিপূর্ণ হয়ে থাকে সড়কটি।
এলাকার ভুক্তভোগী বাসিন্দারা তাদের ক্ষোভ ও কষ্টের কথা তুলে ধরেছেন। পুরান সোনাকান্দা এলাকার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, "রাস্তাটির কারণে আমাদের জীবনযাত্রা একদম থমকে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তগুলো আর দেখা যায় না, ফলে রিকশা বা মোটরসাইকেল উল্টে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটছে। বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানোও এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।"
আরেক স্থানীয় পথচারী ও অটোরিকশাচালক মো. আলমগীর হোসেন জানান, "এই ভাঙা রাস্তায় গাড়ি চালালে প্রতিদিন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায়। যা আয় করি, তার বেশিরভাগই গাড়ি মেরামতে চলে যায়। আমরা দ্রুত এই রাস্তাটির স্থায়ী সংস্কার চাই।"
স্থানীয় স্কুলশিক্ষার্থী রাফি আহমেদ বলে, "প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে আসা-যাওয়া করতে গিয়ে অনেক কষ্ট হয়। কাদা-পানিতে জুতো-পোশাক নষ্ট হয়ে যায়, অনেক সময় ক্লাসেও দেরি হয়।"
এলাকাবাসীর দাবি, জনদুর্ভোগের এই চিত্র আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ নেবে এবং এলাকাকে এই চরম দুর্ভোগ থেকে মুক্ত করবে।
মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার