বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

গোপালগঞ্জে টাকার বিনিময়ে অযোগ্য ব্যাক্তিকে টিসিবির ডিলার পুনঃনিয়োগ

হোসেন আলী রানা
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৫ pm
৫৩
গোপালগঞ্জে টাকার বিনিময়ে অযোগ্য ব্যাক্তিকে টিসিবির ডিলার পুনঃনিয়োগ

হোসেন আলী রানা,

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ফারুক শরীফ নামের এক অযোগ্য ব্যক্তিকে টাকার বিনিময়ে টিসিবি'র ডিলার হিসেবে পুনঃনবায়ন করে নিয়োগ করা হয়েছে। নবায়ন পাওয়া ওই ব্যক্তির প্রতিষ্ঠানের নাম মেসার্স ফারুক ট্রেডার্স। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফারুক শরীফ ২০২১-২২ অর্থ বছরে সর্বপ্রথম বানোয়াট কাগজপত্র তৈরি ও মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করে বড় অংকের টাকার বিনিময়ে টিসিবি'র ডিলার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন। বর্তমানেও তিনি পুনঃনবয়ানের ক্ষেত্রে একই ধরনের বানোয়াট কাগজপত্র তৈরি ও মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করে সরকারকারি দপ্তরকে ফাঁকি দিয়েছেন। গত ১২জুলাই ২০২৬ তারিখে এই ফারুক ট্রেডার্স এর অবৈধ পুনঃনবায়ন দেওয়ার প্রতিবাদে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা সহ জেলার সকল টিসিবি'র ডিলারগণ লিখিত অভিযোগ, মানবন্ধন সহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন।

সদ্য সাবেক ডিলার দিপক কুমার সাহা ও সোহেল মিয়াসহ সদর উপজেলার অধিকাংশ টিসিবি'র ডিলার সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের সকল ধরনের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আমাদের প্রতিষ্ঠান ভিজিটের সময় ২০ হাজার করে টাকা উৎকোচ নিয়েছেন টিসিবি মাদারিপুর অফিসের সহকারী পরিচালক মোঃ কামরুজ্জামান। তিনি বলেছিলেন আপনাদের গোডাউন, রানিং দোকান ও কাগজপত্র সবই ঠিক আছে, আপনারাই পুনঃনবায়নের যোগ্য। একপর্যায়ে জানতে পারলাম আমাদের প্রতিষ্ঠানকে পুনঃনবায়ন দেওয়া হচ্ছে না। পরে গোপন সূত্রের মাধ্যমে জেনেছি ফারুক ট্রেডার্স ও রিমি এন্টারপ্রাইজ কে বড় অংকের টাকার বিনিময়ে পুনঃনবায়ন করে দিয়েছে। তারা জানান গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় যে দুটি প্রতিষ্ঠানকে পুনঃনবায়ন দিয়েছে তাঁদের মধ্যে রিমি এন্টারপ্রাইজের যথাযথ যোগ্যতা থাকলেও মেসার্স ফারুক ট্রেডার্স এর কোন যোগ্যতা ও বৈধতা নেই।

এসকল অভিযোগের বিষয়ে পুনঃনবায়ন পাওয়া ডিলার ফারুক শরীফ ও টিসিবি মাদারিপুরের সহকারী পরিচালক কামরুজ্জামানের দাবি অভিযোগগুলো বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।

সরজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপিনাথপুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া বাজারের যে ঠিকানায় ফারুক শরীফ টিসিবি'র লাইসেন্স নিয়েছেন সেখানে তার কোন দোকান ও গোডাউন ছিল না এবং বর্তমানেও নেই। অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থ বছরে নুতন লাইসেন্স নেওয়ার সময় তিনি আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রভাব ও টাকার বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষদের ম্যানেজ করে দৃশ্যমান দোকান ও গোডাউন না থাকার পরেও টিসিবি'র লাইসেন্স পেয়েছিলেন।

এবিষয়ে উপজেলা নিবার্হী অফিসার কৌশিক আহাম্মেদ বলেন, টিসিবি'র লাইসেন্স পুনঃনবায়নের বিষয়ে আমাদের কোন হাত নেই। তার পরেও আমি ডিসি স্যারের সাথে কথা বলবো। কোন প্রকার অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে ডিসি স্যারের সহযোগিতায় টিসিবি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাধান করার চেষ্টা করবো।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!