বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

গাজীপুরে ১২ সপ্তাহে হর্নমুক্ত নগর গড়ার উদ্যোগ, সরকারি যানবাহনে অপ্রয়োজনীয় হর্ন বন্ধের আহ্বান।

তানিয়া আক্তার ফারজানা তানিয়া আক্তার ফারজানা
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫২ am
গাজীপুরে ১২ সপ্তাহে হর্নমুক্ত নগর গড়ার উদ্যোগ, সরকারি যানবাহনে অপ্রয়োজনীয় হর্ন বন্ধের আহ্বান।

টঙ্গী, গাজীপুর প্রতিনিধি-

তানিয়া আক্তার ফারজানা

নাগরিক জীবনে শব্দদূষণ এখন অন্যতম বড় পরিবেশগত সমস্যা। যানবাহনের অপ্রয়োজনীয় হর্ন, অতিরিক্ত শব্দ এবং অনিয়ন্ত্রিত ট্রাফিকের কারণে প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে গাজীপুর জেলা প্রশাসন। লক্ষ্য আগামী ১২ সপ্তাহের মধ্যে গাজীপুরকে একটি হর্নমুক্ত, শান্ত ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করা। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে সরকারি যানবাহনে অপ্রয়োজনীয় হর্ন ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বেসরকারি যানবাহনের চালক, পরিবহন মালিক, ট্রাফিক পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ শুধু একটি প্রশাসনিক কার্যক্রম নয়, এটি জনস্বাস্থ্য রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তাই আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাসস্ট্যান্ড, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হবে। চালকদের সঙ্গে মতবিনিময়, লিফলেট বিতরণ এবং বিভিন্ন প্রচারমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় হর্ন ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হবে।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত শব্দ মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। নিয়মিত উচ্চমাত্রার শব্দে থাকলে শ্রবণশক্তি হ্রাস, উচ্চ রক্তচাপ, অনিদ্রা, মানসিক চাপ, হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি এবং শিশুদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। হাসপাতালের রোগী, পরীক্ষার্থী, প্রবীণ ব্যক্তি ও নবজাতকদের জন্যও অতিরিক্ত শব্দ বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

নগরবাসীর অনেকেই এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, যানজটের সময় অনেক চালক অকারণেই বারবার হর্ন বাজান, যা শুধু শব্দদূষণই বাড়ায় না, বরং সড়কে অস্থির পরিবেশও সৃষ্টি করে। এ অভ্যাস পরিবর্তন করা গেলে নগরজীবন আরও স্বস্তিদায়ক হবে।

ট্রাফিক সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কেবল জরুরি প্রয়োজনে হর্ন ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখাও সহজ হবে। একই সঙ্গে চালকদের মধ্যে দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষও একটি শান্ত পরিবেশে চলাচলের সুযোগ পাবেন।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে, যাতে অপ্রয়োজনীয় হর্ন ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা যায় এবং নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা আরও বাড়ে। পরিবেশবিদদের মতে, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেকে যদি অপ্রয়োজনীয় হর্ন ব্যবহার থেকে বিরত থাকেন এবং ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলেন, তাহলে একটি স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ ও শান্ত নগর গড়ে তোলা সম্ভব।

১২ সপ্তাহের এই কর্মপরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে গাজীপুর দেশের অন্যান্য জেলার জন্য একটি অনুসরণযোগ্য উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নাগরিকদের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগ শুধু ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে গাজীপুরে শব্দদূষণ কমিয়ে একটি স্বস্তিদায়ক নগর পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!