মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি;
জামালপুরের মাদারগঞ্জে মাত্র ৫০০ টাকার লোভে ও বিনোদনের উদ্দেশ্যে প্রকাশ্যে একটি জ্যান্ত পাখিকে ছিঁড়ে খাওয়ার মতো পৈশাচিক ঘটনা ঘটেছে । বর্বরোচিত ও অমানবিক এই ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় শুরু হলে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত অটোচালক ছাদুল্লাহকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে মাদারগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের কোয়ালিকান্দি বাজারে এ লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। আটককৃত ছাদুল্লাহ ওই এলাকার মৃত হাবিজল মিয়ার ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অন্য এক অটোচালকের সাথে ৫০০ টাকার বাজি ধরে ছাদুল্লাহ। বাজির শর্ত অনুযায়ী সবার সামনে একটি জ্যান্ত পাখি হাতে নিয়ে সেটির পা ও ডানা নির্মমভাবে মুচড়ে ভেঙে ফেলেন তিনি। ছটফট করতে থাকা যন্ত্রণাকাতর পাখিটিকে সেখানেই জীবন্ত টেনে ছিঁড়ে খেয়ে ফেলেন ছাদুল্লাহ। এ সময় উপস্থিত উৎসুক জনতার একাংশকে উল্লাস করতেও দেখা যায়।
ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে তীব্র নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। বন্যপ্রাণীর প্রতি এমন ভয়াবহ নিষ্ঠুরতায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন সচেতন মহল।
গ্রেপ্তারের পর নিজের ভুল স্বীকার করে অভিযুক্ত ছাদুল্লাহ জানান, "৫০০ টাকার বাজিতে বিবেকে নয়, আবেগে এ কাজ করেছি। এটা আমার পুরোপুরি ভুল হয়েছে।"
মাদারগঞ্জ মডেল থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) স্নেহাশিষ রায় জানান, ঘটনাটি মাননীয় পুলিশ সুপার মহোদয়ের দৃষ্টিগোচর হলে তাঁর নির্দেশনায় এবং সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া (মাদারগঞ্জ সার্কেল)-এর তত্ত্বাবধানে দ্রুত অভিযান চালানো হয়। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে কোয়ালিকান্দি এলাকার নিজ বাড়ি থেকে অভিযুক্ত ছাদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
ওসি আরও জানান, প্রাণী নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। খবর দেওয়া হয়েছে বন বিভাগকেও; তারা পৌঁছালে যৌথ আইনগত ব্যবস্থা সম্পূর্ণ করা হবে।