ঢাকার আশুলিয়ার পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় শিশু অপহরণ, মাদক ব্যবসা, অসামাজিক কার্যকলাপ ও ভূয়া মামলায় ফাঁসানোর (ফিটিং বাণিজ্য) অভিযোগে চিহ্নিত এক চক্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় সুশীল সমাজ ও নির্যাতিত এলাকাবাসী।
অভিযুক্ত চক্রটির অত্যাচার ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে রেহাই পেতে এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় আশুলিয়া থানার প্রধান ফটকের সামনে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানবন্ধনের মূল দাবি ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্য
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া একাধিক ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় সেলিনা, মনির ও সালমা চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে একটি অপরাধী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে বা আড়ালে তারা মাদক কারবারের পাশাপাশি অসামাজিক কার্যকলাপ ও বহিরাগত বখাটেদের দিয়ে ব্লাকমেইলিং (ফিটিং বাণিজ্য) চালিয়ে আসছে।
মানববন্ধনে বক্তারা কয়েকটি চাঞ্চল্যকর অপরাধের চিত্র তুলে ধরে বলেন, এরা শিশু অপহরণ ও ভিক্ষাবৃত্তিতে রূপান্তর করার মত জঘন্য অপরাধ করে থাকে। বিগত দিনে এই চক্রের সদস্য সেলিনা নামের নারী এক শিশুকে অপহরণ করে। পরবর্তীতে শিশুটিকে শারীরিক নির্যাতন ও বিকলাঙ্গ করে জোরপূর্বক ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করা হচ্ছে। পথচারী ও খেটে খাওয়া মানুষের ওপর নির্যাতনের অভিযোগও আছে। সম্প্রতি এক রিকশাচালকের রিকশা আটকিয়ে অন্যায়ভাবে টাকা দাবি করে সেলিনা গং। এ সময় এক পথচারী বাধা দিলে চক্রের পালিত সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ওই পথচারীকে বেধড়ক মারধর ও নীলাফোলা জখম করা হয়। অবৈধ অর্থ ও প্রশাসনিক প্রভাবের অভিযোগ করে মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে বলা হয়, অভিযুক্ত সেলিনার স্বামী মনির ধামরাই ভূমি অফিসে চাকরি করেন। অবৈধ অর্থের জোর ও প্রভাব খাটিয়ে তারা একের পর এক অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবাদ করলে উল্টো মামলা ও হামলার ভয়ভীতি দেখানো হয়।
এবিষয়ে আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অপরাধ চক্রটির ধারাবাহিক অপকর্ম ও নির্যাতনের ফিরিস্তি উল্লেখ করে গত সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এলাকার সচেতন নাগরিক ববিতা আক্তার স্থানীয় ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর পক্ষে এই অভিযোগ জমা দেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয় যে, চক্রটির অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে সাধারণ মানুষ বারবার প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো স্থায়ী সমাধান পাচ্ছে না। অবৈধ অর্থের বিনিময়ে তারা পার পেয়ে যাওয়ায় এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
সুশীল সমাজ ও এলাকাবাসী মানববন্ধন থেকে দাবি জানিয়ে বলেন, স্থানীয় সুশীল সমাজ ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্ত করে চিহ্নিত অপরাধী সেলিনা, মনির ও সালমাসহ তাদের সহযোগী গুন্ডাবাহিনীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অপহৃত শিশুকে উদ্ধার করে তার পরিবারের নিকট ফিরিয়ে দিতে হবে অথবা বিকলাঙ্গ বানিয়ে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করা অপহৃত শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধার করে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বলা হয়, পল্লীবিদ্যুৎ ও আশপাশের এলাকাকে মাদক, অসামাজিক কাজ ও চাঁদাবাজমুক্ত করতে পুলিশি টহল ও নজরদারি বাড়াতে হবে।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা হুঁশিয়ারি দেন যে, প্রশাসন যদি অতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে এলাকাবাসী কঠোর সামাজিক ও আইনি আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।