নিহত রহিমা ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর থানার লামাপাড়া গ্রামের সান্দু ডাক্তারের মেয়ে। তিনি পরিবারের সঙ্গে গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীর ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের কাজীপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। স্থানীয় মাসকো গার্মেন্টসে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে রহিমা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন। এ সময় মহাসড়কের মাঝ লেনে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহগামী দ্রুতগতির ইউনাইটেড পরিবহনের একটি বাস তাকে ধাক্কা দেয়। বাসটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-ব-১২-৪২৪৬। ধাক্কার পর তিনি সড়কে পড়ে গেলে বাসের চাকার নিচে পিষ্ট হন। এতে তার পেটে গুরুতর আঘাত লাগে এবং মাথায় মারাত্মক জখম হয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
দুর্ঘটনার পর বাসচালক দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে গাছা থানা এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা বাসটি আটক করেন। তবে বাসের চালক বা সহকারীকে আটক করা হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা মরদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে পাঠান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ হেফাজতে নেয়।
এদিকে গার্মেন্টস শ্রমিক রহিমার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন গার্মেন্টসের শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে তারা মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এতে মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং যানজটের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওই অংশে দ্রুতগতির যানবাহনের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। পথচারীদের মহাসড়ক পারাপারে নিরাপদ ব্যবস্থা না থাকায় শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতে হয়। তারা দুর্ঘটনাপ্রবণ ওই এলাকায় নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা ও যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান।
টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছুটা যান চলাচল ব্যাহত হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। নিহত নারীর মরদেহ পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। দুর্ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।