দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের হৃদরোগীদের উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার লক্ষ্যে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রায় এক দশক আগে স্থাপন করা হয় ক্যাথল্যাব। তবে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, দক্ষ জনবল ও টেকনিশিয়ানের অভাবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এটি নিয়মিতভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যয়বহুল এই চিকিৎসা সরঞ্জামটি বর্তমানে সচল আছে কি না, তা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে। হাসপাতাল সূত্র বলছে, ক্যাথল্যাব চালু করতে প্রয়োজনীয় জনবল ও কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।
ক্যাথল্যাবের মাধ্যমে হৃদরোগের বিভিন্ন জটিলতা নির্ণয় ও চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়। বিশেষ করে হৃদরোগের জরুরি চিকিৎসায় এ ধরনের সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ বলে চিকিৎসাসংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
ফরিদপুরে ক্যাথল্যাবের সেবা চালু না থাকায় জেলার পাশাপাশি আশপাশের এলাকার হৃদরোগীদেরও উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকাসহ অন্যত্র যেতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, হার্ট অ্যাটাকের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীকে দূরের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণ ও অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি হয়।
এ ছাড়া ঢাকায় চিকিৎসা নিতে গিয়ে রোগীদের পরিবহন, চিকিৎসা ও থাকার জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের রোগীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান।
সরকারি অর্থে কেনা একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জাম দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে সচেতন নাগরিকদের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে। তাদের মতে, যন্ত্রটি চালু করার উপযোগী থাকলে দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল ও কারিগরি ব্যবস্থা নিশ্চিত করে সেবা চালু করা প্রয়োজন।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন কেনাকাটা নিয়েও অতীতে নানা অভিযোগ ও আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে আইসিইউর পর্দা কেনাকাটায় অস্বাভাবিক দামের অভিযোগও আলোচনায় এসেছিল। তবে এসব অভিযোগের সঙ্গে ক্যাথল্যাবটি চালু না হওয়ার সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।
সচেতন মহলের দাবি, প্রথমে ক্যাথল্যাবের বর্তমান কারিগরি অবস্থা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার বা রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে কার্ডিওলজিস্ট, টেকনিশিয়ানসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ বা পদায়ন করে দ্রুত সেবা চালুর উদ্যোগ নিতে হবে।
প্রায় এক দশক ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই চিকিৎসা ব্যবস্থা কেন নিয়মিত চালু করা যায়নি, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি সরকারি অর্থে কেনা যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকার কারণ নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।