সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

ভেদরগঞ্জে বন্ধুর বিয়েতে মালয়েশিয়া থেকে এলেন চার নাগরিক, বাংলাদেশের আতিথেয়তায় মুগ্ধ ‎ ‎

আল আমীন সরদার
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৩ pm
৩৫
ভেদরগঞ্জে বন্ধুর বিয়েতে মালয়েশিয়া থেকে এলেন চার নাগরিক, বাংলাদেশের আতিথেয়তায় মুগ্ধ ‎ ‎

বাঙালি বন্ধু নাজমুল মৃধার বিয়েতে যোগ দিতে এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও মানুষের আতিথেয়তা কাছ থেকে দেখতে মালয়েশিয়া থেকে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে এসেছেন চার মালয়েশীয় নাগরিক। বন্ধুর আমন্ত্রণে বাংলাদেশে এসে এখানকার মানুষের আন্তরিকতা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও গ্রামীণ পরিবেশে মুগ্ধ হয়েছেন তারা।

‎

‎মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান সি সিমার এন্টারপ্রাইজের মালিকসহ চার মালয়েশীয় নাগরিক। পরে তারা শনিবার সন্ধায় শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার চরভাগা ইউনিয়নের মৃধাকান্দি গ্রামে নাজমুল মৃধার বাড়িতে যান।

‎

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভেদরগঞ্জ উপজেলার মৃধাকান্দি গ্রামের কালাচান মৃধার ছেলে নাজমুল মৃধা প্রায় ১৬ বছর আগে জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। সেখানে দীর্ঘদিন কাজ করার পর প্রায় ১০ বছর ধরে সি সিমার এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি। কর্মদক্ষতা ও সততার কারণে প্রতিষ্ঠানটির মালিকসহ পরিবারের সদস্যদের কাছে প্রিয় হয়ে ওঠেন নাজমুল।

‎

‎কাজের সূত্রেই প্রতিষ্ঠানের মালিকের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। সম্প্রতি নাজমুল দেশে ফিরলে একই গ্রামের মেয়ে জান্নাত আক্তারের সঙ্গে তার বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক হয়। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) তাদের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বিয়ের অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার বন্ধুকে আমন্ত্রণ জানান নাজমুল। তার আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে চার মালয়েশীয় নাগরিক বাংলাদেশে এসে বিয়েতে অংশ নেন।

‎

‎মালয়েশীয় নাগরিক ইসমাঈল বলেন, “বন্ধু নাজমুল যখন আমাকে তার বিয়েতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানায়, আমি সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যাই। বাংলাদেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে তার কাছ থেকে অনেক কিছু জেনেছি। তাই তার বিয়েতে সরাসরি অংশ নেওয়ার আগ্রহ ছিল। এই সফরের মাধ্যমে আমাদের বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।”

‎

‎আরেক মালয়েশীয় নাগরিক জেসু বলেন, “বন্ধুর পরিবারের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে আমাদের বরণ করে নেওয়া হয়েছে। তাদের এমন আন্তরিক আতিথেয়তা এবং বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সবুজের সমারোহ আমাকে খুবই মুগ্ধ করেছে। অনুষ্ঠান শেষে দেশে ফিরে গেলেও আবারও বাংলাদেশে আসার ইচ্ছে রয়েছে।”

‎

‎নাজমুল মৃধা বলেন, “জীবনের কঠোর বাস্তবতায় নিজ দেশ ও পরিবার ছেড়ে প্রবাসজীবন কাটাতে হয়। তবে প্রবাসে কর্মদক্ষতা, সততা ও ভালো আচরণকে কাজে লাগাতে পারলে অনেক কিছুই অর্জন করা সম্ভব। মালয়েশিয়ায় যাদের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছে, তাদের মধ্যে সি সিমার এন্টারপ্রাইজের মালিক অন্যতম। তার সঙ্গে পরিচয়ের পর বর্তমানে আমরা একসঙ্গে ব্যবসাও করছি। আমার বিয়েতে তিনি এসেছেন—এটা আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের বিষয়।”

‎

‎তিনি আরও বলেন, “প্রবাসে যারা আছেন, তারা যেন সব সময় সততা ও আদর্শের সঙ্গে কাজ করেন। আমাদের নীতি-আদর্শ ভালো হলে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করা সম্ভব। এতে বাংলাদেশের মানুষেরই লাভ হবে।”

‎

‎কনে জান্নাত আক্তার বলেন, “তারা আমাদের বিয়েতে এসেছেন দেখে খুব ভালো লাগছে। গ্রামের মানুষও তাদের দেখতে ও কথা বলতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। বিদেশি অতিথিরা আমাদের বিয়েতে আসায় আমাদের আনন্দ আরও বেড়ে গেছে।”

‎

‎বিয়ের অনুষ্ঠানে চার মালয়েশীয় নাগরিকের উপস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যেও কৌতূহলের সৃষ্টি করে। তাদের দেখতে নাজমুলের বাড়িতে ভিড় করেন অনেকেই। বন্ধুত্বের টানে বিদেশি নাগরিকদের এমন আগমনকে ঘিরে এলাকায়ও তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

‎

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!