কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধিঃ
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বলৎকার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসা শিক্ষকের (বড় হুজুর) বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি জানাজানি পর অভিযুক্ত শিক্ষককে উপজেলার সদকী ইউনিয়নের তালোয়া মাজার হাফেজিয়া মাদ্রাসা থেকে আটক করে থানা পুলিশ ।
অভিযুক্ত শিক্ষক (বড় হুজুর) মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার তাহেরহুদা ইউনিয়নের নায়ায়নকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি তালোয়া মাজার হাফেজিয়া মাদ্রাসার বড় হুজুর হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন ।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশু গত সাত মাস ধরে তালোয়া মাজার হাফিজিয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছিল। গত ১২ জুলাই বেলা ১১টার দিকে মাদ্রাসার মক্তবে শিশুটি ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় শিক্ষক মুস্তাফিজুর রহমান তাকে বলৎকার চেষ্টা চালায়। এসময় শিশুটি যাতে ঘুম থেকে জেগে চোখ না খোলে সেজন্য অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে বলে ‘তুমি ঘুম থেকে জেগোনা মনে করো তুমি ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখছো’। এই ঘটনা শিশুটির এক সহপাঠী দেখে ফেললে অভিযুক্ত শিক্ষক দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে প্রত্যক্ষদর্শী শিশু ঘটনাটি তার আরেক সহপাঠীকে জানায়।
পরবর্তীতে বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার আশঙ্কায় ২১ জুলাই মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে অভিযুক্ত শিক্ষক ওই সহপাঠীকে মাদ্রাসা সংলগ্ন গোরস্থানে ডেকে নিয়ে মারধর করেন এবং ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। শিশুকে মারধরের এই ঘটনা স্থানীয় দুজন ব্যক্তি দেখেন । পরে ঘটনাটি অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে জানাজানি হয়।
পরবর্তীতে স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষককে আটকে রাখে এবং ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারকে খবর দেয়। পরে তার পরিবার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সন্তানের কাছ থেকে বিস্তারিত শোনেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষক মুস্তাফিজুর রহমানকে আসামী করে কুমারখালী থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন।
এবিষয়ে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন জানায়, ঘটনার বিষয়ে জানতে পেরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা থানায় এজাহার দিলে এবং ঘটনা সত্যতা মিলায় মামলা রুজু করা হয় বলে জানান তিনি।
উপজেলা প্রতিনিধি