নওগাঁর বদলগাছীতে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে বিদ্যালয়ের কার্যালয়ে নিয়ে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মো. শফিউল হাসান দিপু (৪৭) নামে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তিনি জামায়াতে ইসলামীর নেতা এবং উপজেলার ভান্ডারপুর আলফা কেজি স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবার করা মামলায় আদালতে জামিন নিতে গিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩ আগস্ট সকাল ৭টার দিকে প্রতিদিনের মতো বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির কক্ষে উপস্থিত হয় ওই ছাত্রী। এ সময় ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে বিদ্যালয়ে অন্য কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন না বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এই সুযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ছাত্রীকে শ্রেণিকক্ষ থেকে বিদ্যালয়ের কার্যালয়ে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে চকলেট খাওয়ানোর পর অভিযুক্ত শিক্ষক শিশুটির সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন এবং জোর করে কাছে টেনে নিয়ে তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন। একপর্যায়ে তার পরনের পায়জামা খুলে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। শিশুটি কান্নাকাটি শুরু করলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে সে শ্রেণিকক্ষে গিয়ে কান্নাকাটি করতে থাকে। বৃষ্টি থামার পর বিদ্যালয় থেকে দৌড়ে রাস্তায় চলে আসে সে। পরে তার বাবা তাকে বাড়িতে নিয়ে গেলে পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনাটি জানায়।
এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) নূরনবী ঘটনার বিষয়ে জানান, মামলাটিতে আগাম জামিন নিতে অভিযুক্ত শিক্ষক আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তের বক্তব্য এবং মামলার পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।