রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

ঘোড়াঘাটে আগাম আমন ধান কাটা শুরু, বাড়তি খরচে কমছে কৃষকের লাভ

নিজস্ব প্রতিনিধি
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২১ pm
১০
ঘোড়াঘাটে আগাম আমন ধান কাটা শুরু, বাড়তি খরচে কমছে কৃষকের লাভ

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
সাকিব হাসান নাইম 

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু করেছেন কৃষকেরা। ধান কাটার পরপরই জমি প্রস্তুত করছেন আগাম শীতকালীন শাকসবজি ও ভুট্টা চাষের জন্য। তবে ধানের ফলন সন্তোষজনক হলেও সার, ডিজেল, কীটনাশক ও কৃষিশ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা। কৃষকদের আশা, আগাম ফসল চাষের মাধ্যমে বাড়তি আয় করে পুষিয়ে নিতে পারবেন উৎপাদন খরচের চাপ।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে অক্টোবরের প্রথম ভাগে আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত এ ধান কাটার কাজ চলবে। আর মৌসুমের সাধারণ আমন ধান কাটা শুরু হবে নভেম্বরের প্রথম দিকে। আগাম ধান কাটার পর একই জমিতে শীতকালীন ফসল চাষের সুযোগ থাকায় অনেক কৃষক এ জাতের ধান চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

এ বছর বড় ধরনের বন্যা ও মারাত্মক রোগবালাইয়ের প্রভাব না থাকায় আগাম জাতের আমনের ফলন আশানুরূপ হয়েছে। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আগের তুলনায় লাভের পরিমাণ কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।

উপজেলার রামেশ্বরপুর গ্রামের কৃষক নজির হোসেন জানান, তিনি উঁচু জমিতে দুই বিঘা আগাম জাতের বিনা-৭ ধান চাষ করেছেন। এসব জমিতে সাধারণত পানি জমে থাকে না। তাঁর হিসাবে, আগাম জাতের আমন ধানের ফলন সাধারণ জাতের তুলনায় বিঘাপ্রতি দুই থেকে তিন মণ কম হয়। এবার বিঘাপ্রতি ১৬ থেকে ১৮ মণ ধান উৎপাদন হচ্ছে।

তিনি বলেন, “এ বছর প্রতি বিঘা জমিতে ধান উৎপাদনে প্রায় ১৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। গত বছর একই পরিমাণ জমিতে খরচ হয়েছিল প্রায় ১২ হাজার টাকা। সার, ডিজেল, কীটনাশক ও শ্রমিকের খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। ধান কাটার পর জমিতে আগাম শীতকালীন সবজি ও ভুট্টা চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

উপজেলার কশিগাড়ি গ্রামের কৃষক মজনু জানান, আগাম জাতের আমনে ফলন কিছুটা কম হলেও দ্রুত ধান কাটার সুবিধা রয়েছে। ধান ঘরে তোলার পর একই জমিতে আগাম শীতকালীন শাকসবজি ও ভুট্টা চাষ করা যায়। এতে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়। এবার ধানের ফলন ভালো হলেও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুজ্জামান জানান, ঘোড়াঘাট উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় এ বছর মোট ১৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আগাম জাতের ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫০০ হেক্টর।

তিনি বলেন, মৌসুমের শুরুতে কিছুটা খরা ও অনাবৃষ্টি থাকলেও বর্তমানে জমির অবস্থা ভালো রয়েছে। বড় ধরনের বন্যার প্রভাব না থাকায় আগাম জাতের আমনের উৎপাদনও আশানুরূপ হয়েছে। কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় কৃষকেরা ভালো ফলনের আশা করছেন।

কৃষি কর্মকর্তা আরও জানান, আগাম জাতের আমন ধান কাটার পর কৃষকেরা একই জমিতে ভুট্টা, আলু, শাকসবজিসহ বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন ফসল চাষ করতে পারেন। এতে জমির বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি হয়।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!