আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লার নবগঠিত বাঙ্গরা উপজেলার ৭ নং পশ্চিম ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন মো. জহীরুল ইসলাম সরকার।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সামাজিক, শিক্ষামূলক, ক্রীড়া ও জনসম্পৃক্ত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কারণে এলাকায় জহীরুল ইসলাম সরকারের পরিচিতি রয়েছে। ব্যবসার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
জহীরুল ইসলাম সরকার ৭ নং পশ্চিম ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের ধনপতিখোলা এলাকার সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম সিরাজুল ইসলাম তুজু চেয়ারম্যানের ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সিরাজুল ইসলাম তুজু চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন ইউনিয়নের মানুষের সেবা ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। তাঁর ছেলে জহীরুল ইসলামও পিতার সামাজিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের দাবি, ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদ, দিঘির ঘাট, কবরস্থান ও ঈদগাহের উন্নয়নসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে জহীরুল ইসলাম সরকারের সম্পৃক্ততা রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক কার্যক্রম এবং তরুণদের নিয়ে সামাজিক ও ক্রীড়া উদ্যোগেও তাকে সক্রিয় দেখা যায় বলে তারা জানান।
এদিকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন জহীরুল ইসলাম সরকারের সমর্থকরা।
নির্বাচনকে সামনে রেখে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের গণসংযোগ, মতবিনিময় ও সামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। চেয়ারম্যান পদে শেষ পর্যন্ত কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।
জহীরুল ইসলাম সরকারের সমর্থকদের দাবি, তিনি শিক্ষিত, যোগ্য ও জনসম্পৃক্ত একজন নেতা। তাদের মতে, তিনি সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম সিরাজুল ইসলাম তুজু চেয়ারম্যানের সুযোগ্য সন্তান। তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে তাঁর নেতৃত্বে ৭ নং পশ্চিম ইউনিয়নের উন্নয়ন আরও এগিয়ে যাবে।
জহীরুল ইসলাম সরকার বলেন, “ইউনিয়নের শিক্ষা, যোগাযোগব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও তরুণদের কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করার আগ্রহ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। পাশাপাশি ইউনিয়নের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও অংশ নিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “দল আমাকে যোগ্য মনে করলে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আমি আশাবাদী। তবে শেষ পর্যন্ত কারা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হবেন এবং দলীয়ভাবে কারা মনোনয়ন বা সমর্থন পাবেন, তা সংশ্লিষ্ট দল ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।”
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিষয়ে জহীরুল ইসলাম সরকার বলেন, “প্রতিহিংসার রাজনীতি আমার পছন্দ নয়। জনগণ ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত দেবেন কে চেয়ারম্যান হবেন।”
তিনি আরও জানান, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে মিলেমিশে ৭ নং পশ্চিম ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, সবুজ ও নিরাপদ ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চান।
তবে আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জহীরুল ইসলাম সরকারসহ শেষ পর্যন্ত কারা প্রার্থী হবেন এবং দলীয়ভাবে কারা মনোনয়ন বা সমর্থন পাবেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।