মোঃ ফরিদ হোসেন, গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুরে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় বাসের হেলপার নিহত হওয়ার আলোচিত ঘটনার রহস্য দীর্ঘ তদন্তের পর উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনার প্রায় দুই বছর পর পিবিআইয়ের অভিযানে ঘাতক কাভার্ড ভ্যানের চালককে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন বলে জানা গেছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৪ জুন ভোর ৫টার দিকে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার পেয়ারাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মোঃ সুজন মিয়া (২৫) অনন্যা ক্লাসিক পরিবহনের হেলপার হিসেবে কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে বাসটি গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানাধীন রাজেন্দ্রপুরের হোটেল এক্স সংলগ্ন ইউটার্ন এলাকায় ময়মনসিংহ-ঢাকা মহাসড়কে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাভার্ড ভ্যান বেপরোয়া গতিতে বাসটির সামনের অংশে সজোরে ধাক্কা দেয়।
দুর্ঘটনার সময় বাসের বাম পাশের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা হেলপার সুজন মিয়া গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার পরপরই কাভার্ড ভ্যানের চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোসাঃ সানজিদা আক্তার মিম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানায় সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৯৮/১০৫ ধারায় মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে সদর থানা পুলিশ মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করলেও পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে পিবিআই গাজীপুর জেলা মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। মামলাটি বর্তমানে পিবিআইয়ের এসআই (নিঃ) মোঃ জুয়েল হোসেন তদন্ত করছেন।
পিবিআইয়ের নিবিড় তদন্তে দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাভার্ড ভ্যানের চালক হিসেবে নোয়াখালী সদর উপজেলার দিনমনিরহাট এলাকার বাসিন্দা মোঃ রাশেদ (২২)-কে শনাক্ত করা হয়। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তিনিই বেপরোয়া ও দ্রুতগতিতে কাভার্ড ভ্যান চালিয়ে বাসটিতে ধাক্কা দেন এবং দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যান।
পরবর্তীতে পিবিআইয়ের বিশেষ অভিযানে পলাতক চালক মোঃ রাশেদকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন বলে পিবিআই সূত্রে জানা গেছে।
পিবিআই জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনও অব্যাহত রয়েছে।