বাঁধ পুনর্বাসন, নদী খনন ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়নে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ,
ফেনী জেলার দীর্ঘদিনের বন্যা, জলাবদ্ধতা ও নদীভাঙন সমস্যা মোকাবিলায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’-এর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) বেলা আড়াইটার দিকে ফেনীর পরশুরাম উপজেলার খেয়াঘাট মুহুরী ব্রিজ এলাকায় প্রকল্পটির উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করেন তিনি।
উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং নদী খনন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। পরে তিনি সেখানে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
প্রকল্পের আওতায় যেসব কাজ হবে
প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ এবং ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচব্যবস্থার উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কৃষি ও জনজীবনে সুফলের প্রত্যাশা
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ফেনীর পরশুরামসহ আশপাশের এলাকার বন্যার ঝুঁকি ও জলাবদ্ধতা কমাতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে নদীভাঙন মোকাবিলা, কৃষিজমি সুরক্ষা, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট দুর্ভোগ কমাতে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে প্রকল্পের সুফল নিশ্চিত করতে নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করা, নির্মাণের গুণগত মান বজায় রাখা এবং অবকাঠামোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি।
এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ফেনী অঞ্চলের বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও কৃষি উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।