নরসিংদী প্রতিনিধি:
নরসিংদীর ল্যাবএইড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা নেওয়ার পর ১৮ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা মো. জাকির হোসেন নরসিংদীর সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে নরসিংদীর ল্যাবএইড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসক ডা. সাব্বির আহমেদ তারিকের কাছে নেওয়া হয়। পরে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নরসিংদী জেলা হাসপাতাল হয়ে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৭ সেপ্টেম্বর শিশুটির মৃত্যু হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিশুটির বাবার অভিযোগ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যথাযথ চিকিৎসা সময়মতো দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে তাদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তার দাবি, চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি বা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
তবে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চিকিৎসক ডা. সাব্বির আহমেদ তারিক।
চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটির বমি হচ্ছিল, সে খাবার খেতে পারছিল না এবং শ্বাসকষ্টও ছিল। ওই সময় নরসিংদীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকায় তিনি শিশুটিকে ডেঙ্গু পরীক্ষার পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে ডেঙ্গু ও রক্তের পরীক্ষা করানো হলে শিশুটির রক্তে লিউকোসাইটোসিস পাওয়া যায় বলে জানান তিনি।
চিকিৎসকের দাবি, শিশুটির শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
তবে শিশুটির নিউমোনিয়া হয়েছে কি না নিশ্চিত হওয়ার জন্য বুকের এক্স-রে করা হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে চিকিৎসক বলেন, সব ক্ষেত্রে এক্স-রে করেই নিউমোনিয়া নির্ণয় করা হয় না। শিশুটির শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তিনি প্র্যাকটিক্যালি নিউমোনিয়া হয়েছে বলে মনে করেছিলেন এবং সে কারণেই এক্স-রে দেননি বলে জানান।
এদিকে, সিভিল সার্জনের কাছে দেওয়া লিখিত আবেদনে শিশুটির প্রেসক্রিপশন, রক্ত ও অন্যান্য পরীক্ষার রিপোর্ট, চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি এবং ভর্তি ও রেফারের কাগজপত্র পর্যালোচনার মাধ্যমে ঘটনার তদন্ত দাবি করেছেন শিশুটির বাবা।
চিকিৎসকের বক্তব্য ও পরিবারের অভিযোগের মধ্যে মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—শিশুটির প্রাথমিক চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ এবং পরবর্তী রেফারেল যথাযথ সময়ে ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী হয়েছিল কি না।
শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং চিকিৎসায় কোনো অবহেলা বা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল কি না, তা নির্ধারণে চিকিৎসা-নথি পর্যালোচনা, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের মতামত এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তদন্তের ফলাফলেই এ ঘটনায় চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, নাকি শিশুটির জটিল শারীরিক অবস্থার কারণে পরবর্তীতে মৃত্যু হয়েছে—সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।