ফরিদপুরের মধুখালীতে মাদ্রাসার ১১ বছর বয়সী এক শিশুছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মো. সাহেদ আলী (৭৭) নামে এক বৃদ্ধকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ আদায় করে ভুক্তভোগী শিশুকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত সাহেদ আলী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাঁকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৮ জুন রাত ১টার দিকে মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্রীদের কক্ষে প্রবেশ করে ঘুমন্ত ১১ বছর বয়সী ওই শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন সাহেদ আলী। তিনি ওই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা এবং মাদ্রাসার এক শিক্ষকের বাবা। এ সময় শিশুটির চিৎকারে তিনি কক্ষ থেকে চলে যান।
ঘটনার কয়েক দিন পর শিশুটি তার মাকে বিষয়টি জানায়। পরে ৭ জুলাই শিশুটির মা বাদী হয়ে সাহেদ আলীকে একমাত্র আসামি করে মধুখালী থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা মধুখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজিম উদ্দীন ফকির।
আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, দরিদ্র পরিবারের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে শিশুটির সঙ্গে আসামি যে অপরাধ করেছেন, তা ন্যক্কারজনক। এ রায়ে তাঁরা সন্তুষ্ট। অপরাধ করলে পার পাওয়া যাবে না—আদালতের এ রায় সেই বার্তাই দিয়েছে।