মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

নরসিংদীর শিল্পাঞ্চল চৌয়ালা-শালিধায় অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি, সনেট-আবু লাল গ্রুপের দ্বন্দ্বে আতঙ্কে সাধারণ মানুষ

আর এ লায়ন সরকার
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৪ pm
৭
নরসিংদীর শিল্পাঞ্চল চৌয়ালা-শালিধায় অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি, সনেট-আবু লাল গ্রুপের দ্বন্দ্বে আতঙ্কে সাধারণ মানুষ
গোলাগুলির পর হাসপাতালের ছবি

নরসিংদীর শিল্পাঞ্চল চৌয়ালা-শালিধায় অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি, সনেট-আবু লাল গ্রুপের দ্বন্দ্বে আতঙ্কে সাধারণ মানুষ

অস্ত্রের মহড়া, মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একের পর এক সংঘর্ষ; গুলিতে প্রাণহানি ও আহতের ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় শিল্প মালিক-ব্যবসায়ীরা

নরসিংদী প্রতিনিধি:

নরসিংদী শহরের শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত চৌয়ালা ও শালিধা এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সনেট ও আবু লাল নামে দুটি পক্ষের বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকায় প্রায়ই অস্ত্রের প্রদর্শন, হামলা ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। এতে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিল্পকারখানার মালিক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শিল্পসমৃদ্ধ চৌয়ালা এলাকায় টেক্সটাইল কারখানার ঝুট ও ভাঙারির ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত। একসময় ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা কয়েকজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হওয়ার পর পরিস্থিতি সংঘাতের দিকে গড়ায়। এ বিরোধের সঙ্গে সনেট, আবু লাল ও হেলাল নাম সামনে এসেছে।

গত ২ অক্টোবর চৌয়ালা এলাকায় লোকমান হোসেন পৌর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পেছনে সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনায় আবদুল্লাহ বাবু ওরফে শহীদুল্লাহ (২৬) নামে এক যুবক নিহত হন। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হন। পরবর্তী সময়ে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়। প্রথম আলোর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ঝুট-ভাঙারির ব্যবসা ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে বিরোধের বিষয়টি উঠে আসে।

এর রেশ কাটতে না কাটতেই গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যায় চৌয়ালার তালতলা এলাকায় আবারও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে বিল্লাল হোসেন (৩৮) ও ইয়াসিন মিয়া (৩৫) গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সনেট ও আবু লাল পক্ষের বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানো, এলাকায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের প্রতিটি ঘটনার স্বতন্ত্র তদন্ত ও আইনগত প্রমাণ প্রয়োজন।

শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

চৌয়ালা ও শালিধা এলাকায় রয়েছে অসংখ্য শিল্পকারখানা, তাঁতশিল্প, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শ্রমিকদের বসবাস। প্রতিদিন জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো মানুষ এখানে যাতায়াত করেন। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে প্রকাশ্যে অস্ত্রের ব্যবহার ও গোলাগুলির ঘটনা স্থানীয় অর্থনীতি এবং স্বাভাবিক জনজীবনের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, সংঘাতের ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না। কখন কোথায় আবার গোলাগুলি কিংবা হামলার ঘটনা ঘটে, সেই আতঙ্ক নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

পুলিশের বক্তব্য

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আশিকুর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, ৩০ অক্টোবরের গোলাগুলিতে আহত বিল্লাল ও ইয়াসিন আবু লাল পক্ষের সদস্য। এ ঘটনায় কাউসার নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি আবু লাল পক্ষের সাইফুল নামে আরও একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

তিনি জানান, অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দুই পক্ষের প্রধানদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। জেলায় অবৈধ অস্ত্র ও মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে বলেও জানান তিনি।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা

স্থানীয়দের দাবি, শুধু বিচ্ছিন্ন ঘটনার পর অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; চৌয়ালা ও শালিধা এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের উৎস, মাদক ব্যবসার নেটওয়ার্ক, চাঁদাবাজি এবং অপরাধে অর্থায়নের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

একই সঙ্গে শিল্পকারখানা ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে নিয়মিত টহল, সন্দেহভাজন অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে অভিযান এবং অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নরসিংদীর অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল চৌয়ালা-শালিধায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপে অস্ত্রের মহড়া, মাদক ও আধিপত্য বিস্তারের সংঘাত বন্ধ হবে এবং শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!