রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

কেরানীগঞ্জে ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার অভিযোগে হাজী তাজুল গ্রেপ্তার

শাওন হোসেন
রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫১ am
৯৯
কেরানীগঞ্জে ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার অভিযোগে হাজী তাজুল গ্রেপ্তার

ঘটনাস্থল থেকে ককটেলের খোলস, কাচের টুকরা, তারকাঁটা ও বাঁশের লাঠি উদ্ধারের দাবি পুলিশের। ঢাকার কেরানীগঞ্জে ককটেল বিস্ফোরণ, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় হাজী তাজুল ইসলাম (৫২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার তাজুল ইসলাম আওয়ামী লীগের সমর্থক ও অর্থের জোগানদাতা হিসেবে সংশ্লিষ্ট। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে। পুলিশের আদালতে পাঠানো প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, গত ৬ নভেম্বর ২০২৫ বিকেলে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার শাক্তা ইউনিয়নের খোলামোড়া মডেল টাউন এলাকার দিগন্ত ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সামনে নাশকতার পরিকল্পনার তথ্য পায় পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ও সহায়তাকারী সদস্যদের অভিযানে সালমান (৩০), আবু তাহের মন্টু (৪২) ও রাশেদ (৩৪) নামে তিনজনকে আটক করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে জানান, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত হওয়া সংগঠনের ২০ থেকে ৩০ জন সদস্য সেখানে একত্রিত হয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং সরকার পতনের লক্ষ্যে স্লোগান দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে তিনটি বিস্ফোরিত ককটেলের অংশবিশেষ, সাতটি ছোট-বড় কাচের টুকরা, ১৩টি তারকাঁটা, সাতটি ইটের টুকরা এবং ৩০ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের আটটি বাঁশের লাঠি উদ্ধারের কথা উল্লেখ করেছে পুলিশ। একই দিন বিকেল ৫টার দিকে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে এসব আলামত জব্দ করা হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হাজী তাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৬ নভেম্বর রাত সাড়ে ১২টার দিকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন কলাতিয়া বাজারের চৌরঙ্গী মার্কেটের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি নাশকতার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত এবং অর্থের জোগানদাতা বলে পুলিশের দাবি। এ ঘটনায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় ৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ৮ নম্বর মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ৬(১), ১০ ও ১২ ধারায় করা হয়েছে বলে আদালতে পাঠানো প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।‌ গ্রেপ্তার তাজুল ইসলামকে আদালতে পাঠিয়ে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের আশঙ্কা, জামিনে মুক্তি পেলে তিনি পলাতক হয়ে তদন্তে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারেন। তবে মামলার তদন্ত এখনো চলমান। অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় নির্ধারিত হবে।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!