ফেনীতে যৌতুকের দাবিতে অপর্ণা চক্রবর্তী নামে এক গৃহবধূকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, ভরণপোষণ না দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গৃহবধূর স্বামী স্নেহা শীষ চক্রবর্তী চোটনসহ তাঁর পরিবারের চার সদস্যের বিরুদ্ধে ফেনী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর মা উমা চক্রবর্তী।
অভিযুক্তদের বাড়ি ফেনী সদর উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ নারায়ণপুর এলাকায় (ডাকঘর—খাইয়ারা)।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই স্বামী স্নেহা শীষ চক্রবর্তী চোটন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা অপর্ণার কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক এবং ৫ ডিসিমেল জমি লিখে দেওয়ার দাবি করে আসছিলেন। দাবিকৃত যৌতুক ও জমি না দিলে তাঁকে তালাক দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংসার টিকিয়ে রাখতে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ গত ২৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বৈঠকে অভিযুক্তরা উপস্থিত হয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এ সময় অপর্ণাকে মারধর এবং হত্যার পর তাঁর লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁর পরিবার।
এ ছাড়া অপর্ণার পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগও করা হয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে স্থানীয়দের বক্তব্য অনেক তথ্য উঠে এসেছে এতে সবাই ছোটনে দোষ ছিল বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন
অভিযুক্ত চোটনের মায়ের সঙ্গে সংবাদকর্মীরা কথা বললে তিনি একপর্যায়ে ছেলের ভুলের কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্বামী স্নেহা শীষ চক্রবর্তী চোটনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে বাধ্য নন বলে জানিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।