বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় হোসনেয়ারা বেগম (৫৫) নামে এক নারীর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি কচুয়া উপজেলার কয়েলের ভিটা সংলগ্ন কচুয়া গ্রামের মৃত হানিফ আলী সিকদারের স্ত্রী। ঘটনাটি কেন্দ্র করে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে নানান গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ৩০ সেপ্টেম্বর (বুধবার) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে হোসনেয়ারা বেগমের ছেলে হাসিব শিকদার (২৭) তার মাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুরে মাকে ভাসতে দেখে তিনি ডাকচিৎকার দেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার বিস্তারিত জানতে চাইলে মৃত হানিফ আলী সিকদারের প্রথম স্ত্রী হালিমা বেগম (৬০) বলেন, "তিনি কীভাবে মারা গেছেন বা কেন পুকুরে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া গেল, তা আমরা এখনো বুঝে উঠতে পারছি না। তবে বেশ কিছুদিন ধরে তাদের ঘরে এক অপরিচিত লোককে থাকতে দেখেছি। তার পরিচয় জিজ্ঞাসা করলেও আমাদের কিছু জানানো হতো না। আমাদের সন্দেহ হচ্ছে, তার দ্বারা কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে কি না।"
এদিকে মৃত হোসনেয়ারা বেগমের ছেলে হাসিব শিকদারের কাছে ওই অপরিচিত ব্যক্তির পরিচয় জানতে চাওয়া হলে তিনি সাংবাদিকদের কাছে কোনো তথ্য দিতে অস্বীকার করেন। একই সাথে এ বিষয়ে তিনি বিভিন্ন অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন, যা উপস্থিত সবার মনে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।
প্রথম স্ত্রীর সন্তান হারুন শিকদার (৩৬) জানান, ঘটনাটি কীভাবে ঘটলো তা তাদের কাছে পুরোপুরি অস্পষ্ট। তবে স্থানীয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, হোসনেয়ারা বেগমের ছেলে হাসিব মাদকাসক্ত এবং অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আল মামুন বলেন, "এখনোই মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা সম্ভব হচ্ছে না। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।"
তিনি আরও যুক্ত করেন, "পরিবারে একজন অপরিচিত ব্যক্তির উপস্থিতির বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। উক্ত ব্যক্তির বিষয়ে পুলিশি অনুসন্ধান চলছে। তাকে খুঁজে পাওয়া গেলে এই রহস্যের উদঘাটন হতে পারে।"