নওগাঁর রাণীনগরে মা-বোনকে গালিগালাজের প্রতিবাদ করতে গিয়ে মারপিটের শিকার হয়েছেন তুহিন হাসান নামের এক যুবক। এগিয়ে আসলে আরেক ভাই ও বাবাকেও মারপিটের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এমনকি থানায় অভিযোগ করায় দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটও করা হয়েছে বলে ভুক্তভোগীর অভিযোগ।
এঘটনায় ভুক্তভোগী তুহিন হাসান বাদী হয়ে মো: রতন ও সৌরভসহ ৮জনের নাম উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। শুক্রবার (২৫সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ওসি জাকারিয়া মন্ডল।
এর আগে গত সোমবার (২১সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার আতাইকুলা তজের মোড়ে মারপিট ও দোকান ভাঙচুরের এই ঘটনা ঘটে।
মারপিটের শিকার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, আতাইকুলা গ্রামের তুহিন হাসান, ছোট ভাই তুষার হাসান ও বাবা আজিজুল হাকিম। আর অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিরা হলেন, একই এলাকার মো: রতন, সৌরভ, চানু, অল্টু, ময়নুর, সাগর, বাদল ও মো: শিমুল।
অভিযোগে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে রতন তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার থেকে ফোন দিয়ে তুহিনের মা-বোনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। আর মা-বোনকে গালিগালাজ করার প্রতিবাদ করতে গেলে তুহিনকে বাঁশ দিয়ে মারপিট শুরু করে সৌরভ নামের এক যুবক। ছোট ভাই তুষার ও বাবা আজিজুল এগিয়ে এলে রতন ও সৌরভসহ তারা সকলে মিলে বাঁশ দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট করে জখম করে। এবং পরবর্তীতে পাশে থাকা তাদের ওষুধের দোকালে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে দোকানে থাকা দুই লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
তুহিনের ভাই তুষার অভিযোগ করে বলেন, রতনের সাথে আমাদের পূর্বে কোনো দ্বন্দ ছিলনা। তারপরও আমার মা-বোনকে ফোনে গালিগালাজ করে। এর প্রতিবাদ করতে গেলে ভাইয়ের মাথায় হত্যার উদ্দেশ্যে বাড়ি মারে। কিন্তু সেটা গিয়ে চোখের ভুরুর ওপর লাগে। এবং ভাইয়ের চিৎকারে আমি ও বাবা সেখানে এগিয়ে এলে বাবাকেও এলোপাতাড়ি মারপিট করে তারা। এরপর ভাই ও বাবাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, আমরা ঘটনার দিনই থানায় অভিযোগ দিই। পুলিশ তদন্ত করে আসার পর তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদেরকে হাসুয়াসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মারতে আসে। পরে আমরা পালিয়ে যাই। আর এই সুযোগে তারা আমাদের ওষুধের দোকান ও দুটি মোবাইল ভাঙচুর করে। এবং দোকানে থাকা দুই লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
জানতে চাইলে অভিযোগ ওঠা রতন বলেন, একটা ভুল নাম্বারে কল গিয়েছিল। আমি চিনতে পারিনি। তবে ওই প্রান্ত থেকে আমাকে চেনার পরও পরিচয় না দিয়ে গালি দেওয়া হয়েছে। আর আমাকে গালি দেওয়ার পর আমিও গালি দিয়েছি। এরপর তারা দুই ভাই এসে আমাকে মারতে থাকে। পাশে থাকা সৌরভ প্রতিবাদ করলে তাকে মাথায় বাড়ি দেওয়া হয়। এরপর উভয় পক্ষের লোকজনই মার খেয়েছে। আর দোকান কারা ভেঙেছে সেটা আমার জানা নেই। তবে একসময় তিনি বলেন, সৌরভের মাথায় রক্ত জমাট বেঁধে আছে, সেটা দেখে হয়তো কেউ দোকানে বাড়ি মারতে পারে। আর টাকা নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।
জানতে চাইলে অভিযোগ ওঠা মোতালেব ওরফে অল্টু বলেন, এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই। যেহেতু মামলা করেছে, আমরা এজাহারভুক্ত আসামি। তাই আদালতেই বলা হবে।
রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জাকারিয়া মন্ডল বলেন, আতাইকুলা এলাকায় মারপিট ও দোকান ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ সেখানে গিয়েছিল। পরবর্তীতে মামলা হয়েছে। এখন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।