ঈদের ছুটিতে নির্জন সৌন্দর্যের টানে ভ্রমণ করতে পারেন চর হেয়ার দ্বীপে
মোঃরাকিব হাওলাদার
রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
ঈদের ছুটিতে অনেকেই সমুদ্রের টানে দক্ষিণের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় ছুটে যান। তবে কুয়াকাটার পাশেই রয়েছে প্রকৃতির আরেক অপার সৌন্দর্যের দ্বীপ—চর হেয়ার। বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশির মাঝে নিঃশব্দ ও নির্জন এই দ্বীপ যেন প্রকৃতির এক অনন্য উপহার।
দূর থেকে দেখলে মনে হয়, বিশাল সমুদ্রের বুকের মাঝে নিভৃতে জেগে উঠেছে এক টুকরো স্বর্গভূমি। কাছে গেলে সেই অনুভূতি আরও গভীর হয়। সোনালি বালুকাবেলা, ঢেউয়ের ছন্দময় আছড়ে পড়া আর শীতল বাতাসের স্পর্শ মিলে চর হেয়ার হয়ে উঠেছে প্রশান্তির এক অনন্য ঠিকানা।
দ্বীপের ভেতরে প্রবেশ করলেই দেখা মেলে গহীন সবুজ বনের। পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ আর বাতাসের মৃদু সোঁ সোঁ ধ্বনি মিলিয়ে এখানে বিরাজ করে এক অপার্থিব নীরবতা। বিস্তীর্ণ বালুচরে ছুটে বেড়ায় লাল কাঁকড়ার দল, দূরে দেখা যায় জেলেদের মাছধরা নৌকা—সব মিলিয়ে প্রকৃতির এক স্বপ্নিল পরিবেশ তৈরি হয়েছে এখানে।
ভৌগোলিক অবস্থান
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার শেষ প্রান্তে অবস্থিত চর হেয়ার। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘হেয়ার চর’ বা ‘কলা গাছিয়ার চর’ নামেও পরিচিত। চরের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে রয়েছে বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চল ‘সোনার চর’, যেখানে হরিণসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর দেখা মেলে। পূর্বে চর আন্ডা, পশ্চিমে চর তুফানিয়া, উত্তরে টাইগার দ্বীপ ও চর কাশেম অবস্থিত।
কুয়াকাটা থেকে সাগরপথে চর হেয়ারের দূরত্ব প্রায় ৩৫ কিলোমিটার এবং রাঙ্গাবালী উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার।
ভ্রমণের উপযুক্ত সময়
বঙ্গোপসাগর তুলনামূলক শান্ত থাকায় শীতকালকে এই দ্বীপ ভ্রমণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময় ধরা হয়। এ সময় দ্বীপে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখির উপস্থিতিও বেশি দেখা যায়।
পর্যটকদের জন্য সুবিধা
চর হেয়ারে পর্যটকদের জন্য রয়েছে তাবু ও ছোট কটেজে রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা। প্রতিটি তাবুর ভাড়া এক রাতের জন্য প্রায় ৪০০ টাকা। এছাড়া সৈকতে বসার জন্য ছাতা ও আরামদায়ক চেয়ার এবং বনভূমির মধ্যে গাছের সঙ্গে বাঁধা দোলনার ব্যবস্থাও রয়েছে।
খাবারের জন্য পাওয়া যায় সাগরের তাজা মাছ, মুরগি ও ভাতসহ বিভিন্ন প্যাকেজ। স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ‘সোনার চর ট্যুরিজম অ্যান্ড ট্রাভেলস’ পর্যটকদের থাকা, খাওয়া, তাবু ও যাতায়াতের সার্বিক ব্যবস্থাপনা করে থাকে।
যেভাবে আসবেন
ঢাকার সদরঘাট থেকে লঞ্চে সরাসরি রাঙ্গাবালীর চরমোন্তাজ লঞ্চঘাটে যাওয়া যায়। সেখান থেকে ট্রলার বা স্পিডবোটে অল্প সময়েই পৌঁছে যাওয়া সম্ভব চর হেয়ারে। এছাড়া কুয়াকাটা থেকেও ইঞ্জিনচালিত ট্রলার বা স্পিডবোটে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার সাগরপথ অতিক্রম করে এই দ্বীপে যাওয়া যায়।
যা যা দেখবেন
চর হেয়ারে রয়েছে প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ বালুকাময় সৈকত। দ্বীপজুড়ে আছে ঝাউ, কেওড়া, বাইন, গেওয়া ও গোলপাতার বন। এসব গাছে আশ্রয় নেয় অসংখ্য দেশি-বিদেশি পাখি। সারস, বক, শামুকখোলসহ নানা প্রজাতির পাখির কলরবে মুখর থাকে পুরো দ্বীপ।
সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য, বালুচরে লাল কাঁকড়ার বিচরণ এবং সাগরের গর্জন—সব মিলিয়ে চর হেয়ার হয়ে উঠেছে প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য ভ্রমণ গন্তব্য।
প্রকৃতির নির্জনতা ও সমুদ্রের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে ঈদের ছুটিতে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে আসতে পারেন দক্ষিণের এই মনোমুগ্ধকর দ্বীপ চর হেয়ার।
