মণিরামপুর পৌরসভার উন্নয়ন কাজ ঠিকাদারের গাফিলতিতে স্হবির,আটকে আছে তৃতীয় প্রকল্প, দুর্ভোগে পৌরবাসী।
মণিরামপুর উপজেলা প্রতিনিধিঃ- যশোরের মণিরামপুর পৌরসভায় আইইউজিআইপি (IUGIP) প্রকল্পের আওতায় সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ কাজের ধীরগতির কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে সামগ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রম। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ না হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, চলমান দুটি প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তৃতীয় প্রকল্পের কাজ শুরু করা সম্ভব নয়। এতে করে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে এবং এর ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পৌরবাসীকে।
দুটি প্যাকেজের আওতায় পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে আরসিসি, ডিবিসি ও ইউনি-ব্লক পদ্ধতিতে সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের কাজ হাতে নেওয়া হয়।
প্রথম প্যাকেজে ৬০৯,২০০ মিটার সড়ক পুনর্বাসন ও নির্মাণ এবং ২,২৩১ মিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবে কাজের অগ্রগতি খুবই ধীর। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আকুঞ্জি মোড় থেকে তায়েরপুর, হাসপাতাল রোড থেকে কামালপুর এবং পাবলিক লাইব্রেরি থেকে ফাজিল মাদ্রাসা পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের কাজ আংশিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে মাদ্রাসা রোডের ড্রেন নির্মাণ কাজ শুরু হলেও তা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। ১ নম্বর ওয়ার্ডের হাকোবা এলাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের কাজ এখনো শুরু হয়নি। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ মোড় থেকে ঢাকুরিয়া রোড এবং দুর্গাপুর ঈদগাহ থেকে দোলখোলা মোড় পর্যন্ত কাজেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি।
দ্বিতীয় প্যাকেজের আওতায় ৩,৭২৮ মিটার রাস্তা সংস্কার এবং ৩,০৪৫ মিটার ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও অধিকাংশ স্থানে কাজ শুরু হয়নি বা অসম্পূর্ণ অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। জয়নগর, জামতলা মোড়, পোস্ট অফিস মোড়, বিজয়রামপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।
বিশেষ করে মণিরামপুর বাজারের কাপড় পট্টি, কাঁচাবাজার ও কলাই পট্টি এলাকায় ড্রেন নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
পৌর প্রকৌশলী উত্তম মজুমদার জানান, প্রথম প্রকল্পের ঠিকাদার শামীম চাকলাদার এবং দ্বিতীয় প্যাকেজের ঠিকাদার মেসার্স কামরুল ইসলাম। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসে অন্তত ২০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করার কথা থাকলেও ঠিকাদাররা তা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর হলেও ইতোমধ্যে ৪ থেকে ৬ মাস পার হয়ে গেছে। কাজের গতি বাড়াতে প্রকল্প পরিচালক সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের দুইবার নোটিশ প্রদান করেছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক জায়গায় রাস্তা খুঁড়ে রাখা হয়েছে এবং কোথাও ড্রেন নির্মাণ কাজ অর্ধেক করে বন্ধ রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, ফলে রাস্তাগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, ঠিকাদারদের অবহেলা ও খামখেয়ালিপনার কারণে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।
পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলমান দুটি প্রকল্পের কাজ সন্তোষজনকভাবে শেষ না হলে তৃতীয় প্রকল্পের কাজ শুরু করা যাবে না। ফলে উন্নয়নের গতি আরও পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দ্রুত কাজ সম্পন্ন না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে।
