প্রভাব খাটিয়ে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ: সাংবাদিককে হুমকি, নীরব প্রশাসন
আল আমীন সরদার
ভেদেরগঞ্জ (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি
শরীয়তপুরের ভেদেরগঞ্জ উপজেলা-এর সখিপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের হাওলাদার কান্দি এলাকায় সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে মুন্না সিকদারের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের নীরব ভূমিকা ও ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুন্না সিকদার (পিতা: ওহাব আলী সিকদার), সখিপুর হাওলাদার কান্দি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় থাকা কয়েকটি রেন্ডি (রেন্ডি/কড়ই জাতীয়) গাছ কেটে বিক্রি করেন। অভিযোগ রয়েছে, গাছগুলো সখিপুর ভূমি অফিস থেকে আনুমানিক ৫০০-৬০০ মিটারের মধ্যেই অবস্থিত ছিল, যা সরকারি সম্পত্তির আওতাভুক্ত বলে দাবি স্থানীয়দের।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে জানা যায়, মুন্না সিকদার গাছগুলো আজিজ নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন। মঙ্গলবার সকাল থেকে ১০-১৫ জন শ্রমিক নিয়ে তিনি গাছগুলো কেটে সরিয়ে ফেলেন।
ঘটনাটি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মুন্না সিকদার। তিনি দাবি করেন, “গাছ আমার, আমি কেটেছি, এতে কারো কিছু বলার নেই।”
এ সময় তিনি সাংবাদিককে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং তেড়ে আসেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ—এ ঘটনায় সখিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস-এর কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতা রয়েছে।
বিশেষ করে ভূমি কর্মকর্তা মোহাম্মদ জুয়েল ডালির বিরুদ্ধে সমঝোতার অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, তিনি সকালে সমঝোতার জন্য লোক পাঠান এবং তার অফিসের কর্মচারী খালেক মিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন।
এমনকি ভিডিও কলে কথোপকথনের মাধ্যমেও সমঝোতা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে ভেদেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিস-এ যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো তথ্য পায়নি।
তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, কাটা গাছগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ১ থেকে ১.৫ লাখ টাকা হতে পারে। তারা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ ধরনের ঘটনায় সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এ ধরনের অনিয়ম আরও বাড়তে পারে।
