কালীগঞ্জ বাফার গুদামে আওয়ামী প্রেতাত্মা ভর করেছে: ইউরিয়া সার সরবরাহ না পেয়ে ২ জেলার হাজার হাজার কৃষকের মাঝে হাহাকার
ইয়াসিন আরাফাত, নিজস্ব প্রতিবেদক: কালীগঞ্জ বাফার গুদামে কথিত এক বিএনপি নেতা ও হ্যাণ্ডলিং ঠিকাদারের দাপট ও তার নিজ স্বার্থ হাসিলের কারণে ২ জেলায় ইউরিয়া সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ডিলাররা ডিও করেও ইউরিয়া সার সরবরাহ না পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে বিক্রি করতে পারছেনা। ফলে ইরি বোরোর এ ভরা মৌসুমে ২ জেলার কৃষকরা ডিলারদের কাছ থেকে ইউরিয়া সার না পেয়ে তাদের মধ্যে হাহাকার দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, কালীগঞ্জ বাফার গুদাম থেকে ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা জেলার ১২৬ জন বিসিআইসি অনুমোদিত সার ডিলার তাদের অনুকূলে বরাদ্দ অনুযায়ী ইউরিয়া সার ক্রয় করে তা চাষীদের মধ্যে সরবরাহ করে থাকে। গত জানুয়ারী/২৬ সাল থেকে কালীগঞ্জের কথিত এক বিএনপি নেতা শাহজাহান আলী সিলেটের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শাহাজালাল কনস্ট্রাকশনের মালিক রাজু আহাম্মেদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে হ্যান্ডলিং ঠিকাদারীর সাব কন্ট্রাক্ট গ্রহণ করে। এবং প্রথমেই ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ইউরিয়ার পরিবহন ঠিকাদারদের জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে ৫০ টাকা টনের আনলোড ৯০ টাকা করে হাতিয়ে নিতে শুরু করেছে। ফলে বছর শেষে এ গুদামে ১ লাখ ২০ হাজার টন ইউরিয়া সার আনলোড বাবদ কথিত এ ঠিকাদার পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় অতিরিক্ত প্রায় ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এবার তার কুনজর পড়েছে বিসিআইসি অনুমোদিত ডিলারদের ওপর। কথিত হ্যান্ডলিং ঠিকাদার গত আওয়ামী আমলের মতো ডিলারদের জিম্মি করে ডিলারদের ভাড়া করা ও নিজেদের ট্রাকে ইউরিয়া সার লোড না দিয়ে ইউরিয়া সার সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে ডিলাররা ডিও করেও ইউরিয়া সার যথাসময়ে না পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে বন্টন করতে পারছেন না। অন্য দিকে কৃষকরা ইরি-বোরোর এ ভরা মৌসুমে ডিলারদের কাছ থেকে ইউরিয়া সার না পেয়ে ২ জেলার হাজার হাজার কৃষকের মধ্যে হাহাকার দেখা দিয়েছে। ফলে সময় মতো জমিতে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে না পারলে দু জেলার হাজার হাজার হেক্টর জমির ধানের উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে বাফার ইনচার্জ ওহিদুর রহমানের সাথে আলাপ করলে তিনি জানান চলতি মাসে বাফার গুদাম থেকে ৮ হাজার মে. টন ইউরিয়া সার সরবরাহের কথা। ইতিমধ্যে ৪৬ জন ডিলার তাদের অনুকুলে বরাদ্দকৃত সার উত্তলনের জন্য পে-অর্ডার জমা দিয়েছেন। কিন্তু মাত্র ২০০ মে.টন ইউরিয়া সার ইতিমধ্যে সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট টিকাদারের সাথে একাধিকবার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায় নি।
