সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

মিরসরাইয়ে ফারম্যাক স্টিলে ফার্নেস দুর্ঘটনায় চীনা প্রকৌশলীসহ ৩ জনের মৃত্যু, নিরাপত্তা নিয়ে শ্রমিকদের অভিযোগ

মোঃ মিজানুর রহমান
রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২২ am
৪৯
মিরসরাইয়ে ফারম্যাক স্টিলে ফার্নেস দুর্ঘটনায় চীনা প্রকৌশলীসহ ৩ জনের মৃত্যু, নিরাপত্তা নিয়ে শ্রমিকদের অভিযোগ

মিজানুর রহমান, মিরসরাই (চট্টগ্রাম):

চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে অবস্থিত ফারম্যাক স্টিল লিমিটেড কারখানায় ফার্নেসের ত্রুটিতে গলিত লোহা ছিটকে দগ্ধ হওয়ার ঘটনায় চীনা প্রকৌশলীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দগ্ধ অপর এক শ্রমিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।

গত ২৮ সেপ্টেম্বরের এ দুর্ঘটনার পর কারখানাটির নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শ্রমিকেরা। তাঁদের অভিযোগ, কারখানায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় শ্রমিকদের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। কর্মপরিবেশ, নিরাপত্তা, সুযোগ-সুবিধা এবং প্রচলিত শ্রম আইন অনুযায়ী অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা রয়েছে বলে দাবি তাঁদের।

শ্রমিকদের ভাষ্য, পরপর ফার্নেস দুর্ঘটনার ঘটনায় কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান, কারখানার নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাই এবং দায়ীদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

দুর্ঘটনায় দগ্ধ চারজনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১ অক্টোবর শ্রমিক শরিফুল ইসলাম (২৭) ও মনির হোসেন (২৭) মারা যান। সর্বশেষ ২ অক্টোবর সকালে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মারা যান চীনা প্রকৌশলী জেংলিং হং (৫৩)।

নিহত শরিফুল ইসলাম খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার আমতলা ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি দুটি ছোট সন্তানের জনক। দুর্ঘটনায় আহত জুয়েল (৩৬) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে নিহত শরিফুল ইসলামের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রাথমিক আলোচনায় ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব উঠে এলেও এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জোরারগঞ্জ থানায় নিহতের স্বজন এবং কারখানার চীনা ও বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের মধ্যে এ নিয়ে বৈঠক হয়। নিহত শরিফুলের চাচা মনির হোসেন জানান, তাঁরা মামলা করতে চান না; বরং পরিবারের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ চান।

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হালিম বলেন, দুর্ঘটনায় দগ্ধ চারজনের মধ্যে চীনা প্রকৌশলীসহ তিনজন মারা গেছেন। কারখানার প্রতিনিধি ও নিহতদের স্বজনেরা থানায় এসেছিলেন। তাঁদের আইনি বিষয়গুলো জানানো হয়েছে। পরিবার মামলা না করলেও আইন অনুযায়ী পুলিশ মামলা করতে পারে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

অন্যদিকে, কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি বয়লার দুর্ঘটনা নয়। ফার্নেসের ত্রুটির কারণে চুল্লি থেকে গলিত লোহা ছিটকে পড়েই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

এখন মূল প্রশ্ন—কারখানার নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ, সংশ্লিষ্টদের দায় চিহ্নিত করা এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন শ্রমিকেরা।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!