ন্যায্য মূল্য না পেয়ে সড়কে চামড়া ফেলে দেওয়ার প্রবণতা, ক্ষতির মুখে চামড়া শিল্প
আর এ লায়ন সরকার,নরসিংদী।
কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্য মূল্য না পাওয়া এবং সংগ্রহ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় চামড়া অব্যবস্থাপনার চিত্র দেখা যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় নরসিংদীর মদনগঞ্জ সড়কে বিপুল পরিমাণ পশুর চামড়া ও বর্জ্য ফেলে যাওয়ার ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কোরবানির পশুর চামড়া দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাতের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল। একসময় এতিমখানা, মাদ্রাসা ও বিভিন্ন সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান কোরবানির মৌসুমে ব্যাপকভাবে চামড়া সংগ্রহ করলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একই সঙ্গে বাজারে কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পাওয়ায় অনেক কোরবানিদাতা চামড়া সংরক্ষণ ও বিক্রির বিষয়ে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অতীতে এলাকায় এভাবে সড়কে চামড়া ফেলে যাওয়ার ঘটনা দেখা যায়নি। এবার প্রথমবারের মতো বিপুল পরিমাণ চামড়া ও বর্জ্য জনবহুল এলাকায় ফেলে রাখা হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চামড়া সঠিকভাবে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা না গেলে তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। এতে একদিকে যেমন দেশের চামড়া শিল্প মূল্যবান কাঁচামাল হারায়, অন্যদিকে পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। পচা চামড়া থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে, রোগজীবাণুর বিস্তার ঘটে এবং আশপাশের পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
চামড়া খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের ট্যানারি ও চামড়াজাত পণ্য শিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করলেও কাঁচামাল ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এ খাতের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোরবানির মৌসুমে সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিপণনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ বিষয়ে সচেতন মহল বলছে, চামড়ার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, এতিমখানা ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের সংগ্রহ কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করা এবং স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিকল্পিত সংগ্রহ কেন্দ্র গড়ে তোলা জরুরি। পাশাপাশি জনবহুল এলাকা, সড়ক বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পাশে চামড়া ও বর্জ্য ফেলে পরিবেশ দূষণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের মতে, কোরবানির পশুর চামড়া কোনো বর্জ্য নয়; এটি দেশের অর্থনীতির জন্য মূল্যবান সম্পদ। যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই সম্পদকে জাতীয় অর্থনীতির কাজে লাগানো সম্ভব, অন্যথায় অব্যবস্থাপনার কারণে দেশকে অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।