নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘হুমায়ূন মেলা-১৪৩৩’
সামিয়া সুলতানা সাবনম, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
নন্দিত কথাসাহিত্যিক ‘হুমায়ূন আহমেদ’-কে স্মরণ করে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘হুমায়ূন মেলা-১৪৩৩’।
“অনুভবে এক আকাশ হুমায়ূন” স্লোগানকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘নাট্যকলা ও পরিবেশনাবিদ্যা বিভাগ’-এর উদ্যোগে নতুন কলাভবনের সামনে দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করা হয়।
নাট্যকলা ও পরিবেশনাবিদ্যা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ‘ইভেন্ট অ্যান্ড প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট (ব্যবহারিক)’ কোর্সের অংশ হিসেবে আয়োজিত এ মেলার তত্ত্বাবধানে ছিলেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মাজহারুল হোসেন তোকদার।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রখ্যাত অভিনেতা ও অধ্যাপক ‘রহমত আলী’ এবং ‘ওয়াহিদা মল্লিক জলি’-র উপস্থিতিতে উদ্বোধনী সংগীত ও নৃত্যের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করা হয়।
এরপর “এক আকাশ হুমায়ূন” শীর্ষক স্মৃতিচারণমূলক সেশনে হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিচারণ করেন রহমত আলী ও ওয়াহিদা মল্লিক জলি।
বিকেলের আয়োজনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা ও চিকিৎসক ডাঃ এজাজুল ইসলাম। তিনি হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে নিজের কাজের অভিজ্ঞতা এবং তাঁর জীবনদর্শন নিয়ে কথা বলেন।
সাংস্কৃতিক পর্বে নাট্যকলা বিভাগের প্রভাষক ‘রুদ্র শাওজাল’ একক গান ও ঘাটু গান পরিবেশন করেন।
ঘাটু গানের পর বারোয়ারি বিতর্ক পরিবেশন করে ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি’।
দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবৃত্তি সংগঠন ‘শব্দকুঞ্জ’ পরিবেশন করে কাব্যনাট্য ‘অলিখিত প্রেমের দিনলিপি’।
এরপর অনুষ্ঠিত হয় হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতা ‘জানা অজানা হুমায়ূন’।
দিনটির অন্যতম আকর্ষণ ছিল পুকুরে ‘হংস শিকার প্রতিযোগিতা’। কলাভবনের সামনের পুকুরে একটি হাঁস ছেড়ে দেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা পানিতে নেমে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। এতে বিজয়ী হয়ে হাঁসটি উপহার পান সঙ্গীত বিভাগের ১৯তম আবর্তনের শিক্ষার্থী সাগর চন্দ্র রায়।
সন্ধ্যায় ‘ড্রামা চেম্বার’-এর পরিবেশনায় মঞ্চস্থ হয় নাটিকা ‘হুমায়ূনপুর’। ‘ডান্স ক্লাব’-এর নৃত্য পরিবেশনা এবং পরে ‘ব্যান্ড মিউজিক সোসাইটি’, ‘ষড়জ ব্যান্ড’ এবং ‘লোক গানের দল’-এর পরিবেশনায় সংগীতানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দিনব্যাপী এ আয়োজন।
মেলাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতে ছিল নানা রকম খাবার, মাটির জিনিসপত্র, লাইফস্টাইল পণ্যের স্টল, নাগরদোলা এবং ‘হুমায়ূন আহমেদ’-এর লেখা বইয়ের স্টল।
উক্ত আয়োজনের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছে আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজের কোমল পানীয় ব্র্যান্ড ‘স্পিড’।
আয়োজন প্রসঙ্গে মো. মাজহারুল হোসেন তোকদার বলেন, “শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষার অংশ হিসেবেই মেলাটির আয়োজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি একটি আয়োজনের প্রতিটি ধাপে কাজ করার দক্ষতা অর্জন করবে।”
নতুন প্রজন্মের কাছে হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্য ও জীবনদর্শন তুলে ধরাই মূল লক্ষ্য ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
দিনভর মেলাকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতেও মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।
