হাওরে ডুবে যাচ্ছে ফসল, বুকভরা কান্নায় কৃষক; শঙ্কায় খাদ্যনিরাপত্তা
টানা বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পাকা বোরো ধান ঘরে তুলতে না পেরে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। এতে জাতীয় খাদ্য মজুত নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার—এই পাঁচ জেলায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কোথাও ধান নষ্ট হয়েছে, কোথাও কাটার আগেই তলিয়ে গেছে।
সুনামগঞ্জে এ বছর ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো মৌসুমের ধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক ধান এখনো মাঠে রয়ে গেছে। কৃষকদের দাবি, অন্তত ২০ হাজার হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে, যদিও সরকারি হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ কম দেখানো হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে কাটা ধানও শুকানো যাচ্ছে না, ফলে অঙ্কুর গজিয়ে নষ্ট হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জে প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ হলেও এখনো বড় অংশের ধান কাটা হয়নি। কৃষকদের দাবি, প্রায় ৬৫ শতাংশ ধান মাঠেই রয়েছে। ইতিমধ্যে হাওরাঞ্চলে জলাবদ্ধতায় ক্ষতির আশঙ্কা বেড়েছে।
নেত্রকোনায় ২২১৫ হেক্টর জমির ধান ঝুঁকিতে রয়েছে। নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
হবিগঞ্জে ভারী বৃষ্টিতে বিস্তীর্ণ হাওরের পাকা ধান তলিয়ে গেছে। ইতিমধ্যে কয়েক হাজার হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মৌলভীবাজারে নতুন নতুন এলাকায় পানি ঢুকে ধান ডুবিয়ে দিচ্ছে। অনেক কৃষক কাটার আগেই ফসল হারাচ্ছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী তিন থেকে চার দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। এতে নদ-নদীর পানি বেড়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
শ্রমিক সংকট ও লাগাতার বৃষ্টির কারণে ধান কাটা ও শুকানো—দুটিই ব্যাহত হচ্ছে। ফলে অনেক কৃষক ধারদেনা করে উৎপাদিত ফসল হারিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাওরাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষতি হলে তা জাতীয় খাদ্য সরবরাহ ও বাজারে চালের দামে প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তারা।
