রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে নাফ নদী ও স্থানীয় খাল;
মো গিয়াসউদ্দিন, উখিয়া
সামান্য বৃষ্টিপাতেই উখিয়ার বালুখালী, থাইংখালী ও নাফ নদী সংলগ্ন এলাকায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জমে থাকা বিপুল পরিমাণ বর্জ্য বৃষ্টির পানিতে ভেসে খাল ও নদীতে গিয়ে মিশছে। এতে স্থানীয় পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হওয়ার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বৃষ্টির আগে ক্যাম্পের অভ্যন্তরে এবং আশেপাশে এসব বর্জ্য স্তূপ আকারে জমা ছিল । কিন্তু বৃষ্টি শুরু হলেই সুকৌশলে এসব বর্জ্য বিভিন্ন নালা ও ড্রেন দিয়ে স্থানীয় খাল ও নদীতে প্রবাহিত করা হয়। ফলে বালুখালী ছড়া, থাইংখালী খাল এবং সীমান্ত নদী নাফের পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে:
বৃষ্টির তোড়ে ক্যাম্পের প্লাস্টিক বর্জ্য, পলিথিন ও গৃহস্থালি বর্জ্য সরাসরি খালে গিয়ে পড়ছে। এর ফলে এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ক্যাম্পের আশেপাশে থাকা খাল ও নালার পাড়ে
জমে থাকা ময়লা ও দূষিত পানির কারণে মশা ও চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে আরো আগে থেকেই।
ঐ দূষিত পানির মাছ খেয়ে স্থানীয় জনগণ দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে।
স্থানীয়দের দাবি:
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী এই সংকট নিরসনে প্রশাসনের কাছে কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছেন:
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরে আধুনিক ও কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।
খাল ও নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধে কঠোর নজরদারি ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।
হোস্ট কমিউনিটির জন্য বরাদ্দকৃত তহবিল থেকে দৃশ্যমান উন্নয়নের পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ অগ্রাধিকার প্রদান।
ক্যাম্প এলাকায় কর্মরত এনজিওগুলোর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম তদারকি জোরদার করা।
পরিবেশবাদীরা মনে করছেন, দ্রুত এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে না আনলে নাফ নদীসহ সংলগ্ন এলাকার পরিবেশগত বিপর্যয় ঠেকানো সম্ভব হবে না। সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপই পারে এই জনপদকে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে।
