কক্সবাজারের উখিয়ায় সাব্বির ও কালামের নেতৃত্বে পাহাড় কাটা ও বনভূমি দখল: মামলার প্রস্তুতি বন বিভাগের
মোঃ রমজান আলী,কক্সবাজার প্রতিনিধ।
বেশি বেশি গাছ লাগান, পরিবেশ বাঁচান এই স্লোগান যখন চারদিকে মুখরিত, ঠিক তখনই কক্সবাজারের উখিয়ায় একদল ভূমিদস্যুর থাবায় ধ্বংস হচ্ছে বনভূমি ও পাহাড়। এতে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, তেমনি আবাসস্থল হারাচ্ছে বন্যপ্রাণীরা।
কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের উখিয়া রেঞ্জের সদর বিট হাজীপাড়া ৬ নং ওয়ার্ড এলাকায় পাহাড় কাটার এক ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উক্ত এলাকার মৃত বদিউর রহমানের ছেলে মোঃ সাব্বির ও মোহাম্মদ আবুল কালামের নেতৃত্বে বিশাল পাহাড় কেটে বন বিভাগের জমি দখল করা হচ্ছে। সেই দখলকৃত জমিতে ইতোমধ্যে
গরুর ফার্মের নির্মাণের কাজও চলমান রয়েছে।
মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বরত বন কর্মকর্তাদের রহস্যজনক নীরবতার কারণেই অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিট কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করে বন বিভাগের জায়গা দখল করা এখন সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। অভিযোগ আছে, বিট কর্মকর্তারা গাছ ও বাঁশের গাড়ি, অবৈধ করাতকল, পাহাড় কাটা এবং বালি উত্তোলন থেকে নিয়মিত মাসোহারা নিতেই বেশি ব্যস্ত থাকেন। ফলে দিন দিন অপরাধীর সংখ্যা বাড়ছে এবং পাহাড় ও বনের অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়ছে।
সংবাদ সংগ্রহের সময় দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্যেও চরম সমন্বয়হীনতা লক্ষ্য করা গেছে। এ বিষয়ে বিট কর্মকর্তা এমদাদ রনির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন , এই বিটের দায়িত্বে নেই। আবার মোঃ মন্নানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, গত পাঁচ মাস ধরে তিনি এই বিটের দায়িত্বে নেই। দায়িত্ব কার এমন প্রশ্নে সচেতন মহলের মনে দেখা দিয়েছে নানা রহস্য।
তবে পাহাড় কাটার সত্যতা নিশ্চিত করে উখিয়া রেঞ্জের দায়িত্বে থাকা ট্রেনিং পিরিয়ড এসিএফ মোঃ শাহিনুর বলেন, আমি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পাহাড় কাটার প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (DFO) আব্দুল্লাহ-আল মামুন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পাহাড় কাটা ও বনভূমি দখলকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পরিবেশ রক্ষায় অতি দ্রুত এই দখলদারদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কঠোর পদক্ষেপ দেখার অপেক্ষায় রয়েছে উখিয়া হাজীপাড়ার এলাকাবাসী।
