নরসিংদীতে ক্লিনিক বাণিজ্যের ভয়াবহ চিত্র: দালাল চক্রে রোগী পাচার, অপচিকিৎসার অভিযোগ।
আর এ লায়ন সরকার, নরসিংদী।
সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক অভিযোগ—ভুল অপারেশন, সিজারে মৃত্যুর ঘটনা, উত্তেজিত জনতার ভাঙচুর; তদন্তের আশ্বাস সিভিল সার্জনের
নরসিংদী জেলায় সাম্প্রতিক সময়ে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোকে ঘিরে একের পর এক অপচিকিৎসা ও অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, সদর হাসপাতালকে কেন্দ্র করে সক্রিয় দালাল চক্র রোগীদের ভুলিয়ে-ভালিয়ে বিভিন্ন ক্লিনিকে নিয়ে যাচ্ছে, যেখানে অনেক ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় অপারেশনসহ নানা অনিয়ম চলছে।
সম্প্রতি তরুয়া মহল্লার বাসিন্দা মোতালিব তার নাতিকে নিয়ে শহরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার লেবেট-এ যান। সেখানে চিকিৎসকের পরামর্শে এপেনডিসাইটিসের ব্যথা বলে তার নাতির অপারেশন করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে অন্য একটি ক্লিনিকে চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি জানান, রোগীর এমন কোনো সমস্যা ছিল না এবং অপারেশনটি অপ্রয়োজনীয়ভাবে করা হয়েছে। এতে পরিবারটির মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে শহরের নরসিংদী পল্লী ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার-এর বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সদর হাসপাতালের নিকটবর্তী হওয়ায় একটি দালাল চক্র সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগীদের ভুল বুঝিয়ে বা প্রলোভন দেখিয়ে ওই ক্লিনিকে নিয়ে যায়। বিশেষ করে প্রসূতি রোগীদের সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য সেখানে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়েই ওই ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের পর এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এ ঘটনার জেরে ক্ষুব্ধ স্বজন ও এলাকাবাসী ক্লিনিকটিতে ভাঙচুর চালায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে স্থানীয় প্রশাসন।
সচেতন মহলের অভিযোগ, নরসিংদীতে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা অনেক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রয়োজনীয় অনুমোদন, দক্ষ চিকিৎসক ও মানসম্মত চিকিৎসা সুবিধা নেই। তবুও দালাল চক্রের মাধ্যমে রোগী এনে চিকিৎসার নামে ব্যবসা চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে নরসিংদীর সিভিল সার্জন ডা. সৈয়দ মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে যেসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা এসব অনিয়ম বন্ধে দ্রুত কার্যকর অভিযান পরিচালনা না করলে চিকিৎসার নামে প্রতারণা ও অপচিকিৎসার ঝুঁকিতে পড়বে সাধারণ মানুষ।
