সিরাজগঞ্জে নদী-খাল শুকিয়ে বেকার হাজারো জেলে ও নৌ-শ্রমিক
জলিলুর রহমান জনি, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জ জেলায় যমুনা নদীর শাখা নদীসহ বিভিন্ন নদী, খাল ও বিল শুকিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার নৌ-শ্রমিক ও জেলে। কোথাও নদীর বুকে জেগে উঠেছে বিস্তীর্ণ চর, আবার কোথাও বন্যার উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পলি জমে নদী-নালা নালায় পরিণত হয়েছে। ফলে জীবিকা হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এসব শ্রমজীবী মানুষ।
জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় স্থায়ী মৎস্যজীবীর সংখ্যা ২৬ হাজার ৮৭৩ জন। এছাড়া মৌসুমি মৎস্যজীবী রয়েছে আরও প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার। জেলার কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালি, শাহজাদপুর ও সদর উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত যমুনা নদী এবং তাড়াশ ও উল্লাপাড়া উপজেলার চলন বিল এলাকার অনেক স্থান এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে।
নদীর বুক জুড়ে জেগে ওঠা হাজার হাজার একর জমিতে স্থানীয়রা বিভিন্ন ফসলের আবাদ করছেন। উৎপাদন বাড়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটলেও বিপাকে পড়েছেন নৌ-শ্রমিক ও জেলেরা। একসময় ভরা নদীতে নৌকা চালিয়ে ও মাছ ধরে যারা সংসার চালাতেন, তারা এখন কাজ হারিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
নদীতে পানি না থাকায় অনেকেই তাদের নৌকা ও জাল বিক্রি করে দিয়েছেন। কেউ কেউ বিক্রয়লব্ধ অর্থ দিয়ে কিছুদিন সংসার চালালেও এখন প্রায় পুঁজি শূন্য হয়ে পড়েছেন। অনেকেই দাদন ব্যবসায়ী ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে খোরাকি জোগাচ্ছেন এবং কাজের সন্ধানে শহরমুখী হচ্ছেন। শহরে গিয়ে কেউ রিকশা-ভ্যান চালাচ্ছেন, কেউ সিএনজি বা বাস-ট্রাকের হেলপার, গার্মেন্টস শ্রমিক কিংবা রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করছেন।
কাজিপুরের নাটুয়ারপাড়া, শুভগাছা এবং সদর উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলের কয়েকজন জেলে জানান, নদীতে চর পড়ায় এখন আর আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না। ফলে বাধ্য হয়ে পৈতৃক পেশা ছেড়ে অন্য কাজে যুক্ত হতে হয়েছে।
সদরের বিএল স্কুল ঘাট ও কাজিপুরের মেঘাই নৌ-ঘাটের কয়েকজন মাঝি জানান, ২৫-৩০ বছর আগেও প্রায় সারা বছর নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা যেত। কিন্তু এখন শুষ্ক মৌসুম শুরু হলেই নদীর অনেক অংশ শুকিয়ে যায়। নৌকা চালানোর মতো পানিই থাকে না।
এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুর রহমান বলেন, শুষ্ক মৌসুমে খাল-বিল ও নদী-নালা শুকিয়ে যাওয়ায় মাছের উৎপাদন কমে গেছে। এতে অনেক মৎস্যজীবী বেকার হয়ে পড়েছেন। জেলেদের জন্য ভিজিএফ কার্ড প্রদানের লক্ষ্যে তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং দ্রুত ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, নদী খনন ও সঠিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে আরও বেশি মানুষ জীবিকা হারাবে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেছেন তারা
