রমজানে কিশোরগঞ্জে ১০ টাকায় দুধ বিক্রি, ব্যতিক্রমী উদ্যোগ জেসি অ্যাগ্রো ফার্মের
বুরহান খান, কিশোরগঞ্জ সদর প্রতিনিধি:
পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে কিশোরগঞ্জে মাত্র ১০ টাকা লিটার দরে দুধ বিক্রি শুরু করেছে জেসি অ্যাগ্রো ফার্ম। মাসব্যাপী চলবে এ কার্যক্রম। ক্রেতারা সরাসরি খামারে গিয়ে নির্ধারিত মূল্যে দুধ সংগ্রহ করতে পারবেন।
জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের রৌহা গ্রামে বৃহস্পতিবার (প্রথম রোজা) সকাল থেকে এ উদ্যোগ শুরু হয়। সকাল ১০টার দিকে খামারে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন বয়সী মানুষ দুধ নেওয়ার জন্য ভিড় জমিয়েছেন। প্রতিদিন একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ এক লিটার দুধ কিনতে পারবেন। ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই দুধ সংগ্রহ করতে পারলেও অসচ্ছলদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
খামার সূত্রে জানা গেছে, জেসি অ্যাগ্রো ফার্মে বর্তমানে শতাধিক গরু রয়েছে। এর মধ্যে উন্নতজাতের ১৮টি গাভী থেকে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১২০ লিটার দুধ উৎপাদিত হচ্ছে। রমজান মাসে উৎপাদিত সম্পূর্ণ দুধই ১০ টাকা লিটার দরে বিক্রি করা হবে। মাস শেষে প্রায় ৩ মেট্রিক টনের বেশি দুধ স্বল্পমূল্যে বিক্রি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. এরশাদ উদ্দিন জানান, গত ছয় বছর ধরে রোজাদারদের জন্য এ কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছেন তিনি। স্বল্পমূল্যে দুধ সরবরাহের জন্য ২০২৪ সালে তিনি সরকারের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস সম্মাননা’ লাভ করেন।
এরশাদ উদ্দিন বলেন, “রমজানে সাধারণ মানুষের খাদ্যব্যয় বেড়ে যায়। বাজারে যখন নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর প্রবণতা দেখা যায়, তখন তার বিপরীতে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতেই আমি এই উদ্যোগ নিয়েছি।” তিনি আরও বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশে রমজানে পণ্যের দাম কমানো হয়। আমাদের দেশেও ব্যবসায়ীদের উচিত সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো।”
স্বল্পমূল্যে দুধ বিক্রিতে লোকসানের প্রশ্নে তিনি জানান, তার অন্যান্য ব্যবসা—ইট, বালু ও সিমেন্টসহ বিভিন্ন খাতে মুনাফা থাকায় সামগ্রিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে না। সব ব্যবসার সমন্বিত হিসাবেই তিনি এ উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
রমজানকে সামনে রেখে দেশের শিল্পগ্রুপ ও ব্যবসায়ীদের প্রতি খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানান এই উদ্যোক্তা। তিনি বলেন, “মানুষের স্বস্তির কথা ভেবে সবাই যদি এগিয়ে আসে, তাহলে বাজারে অস্থিরতা অনেকটাই কমে যাবে।”
