সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

টিনের স্কুল থেকে বাংলাদেশের গর্ব—ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লার দূরদর্শী নেতৃত্বে এক স্বপ্নের মহাকাব্য

মোঃ কামরুল হাসান পলাশ
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ১০:২২ am
১৩
টিনের স্কুল থেকে বাংলাদেশের গর্ব—ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লার দূরদর্শী নেতৃত্বে এক স্বপ্নের মহাকাব্য

একটি স্বপ্ন, একাগ্রতা আর নিরলস পরিশ্রম কীভাবে একটি প্রতিষ্ঠানকে বদলে দিতে পারে—তার অনন্য উদাহরণ ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা। একটি সময়ের টিনের ঘরের ছোট্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আজ হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন দেখার ঠিকানা। আর এই দীর্ঘ পথচলার নেপথ্যে রয়েছে একজন মানুষের অক্লান্ত শ্রম, দূরদর্শিতা ও শিক্ষার প্রতি গভীর ভালোবাসা।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচন। সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত হাজার হাজার ভোটারের উপস্থিতিতে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। জাতীয় নির্বাচনের মতোই ছিল ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি ও প্রাণচাঞ্চল্য। বিভিন্ন মত ও পথের মানুষ একই ছায়াতলে উপস্থিত থাকলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয় নির্বাচন।

এই শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ নির্বাচন আবারও প্রমাণ করেছে—একটি প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে ভিন্ন মতের মানুষকেও ঐক্যবদ্ধ করা সম্ভব, যদি নেতৃত্বে থাকে আস্থা, সহনশীলতা ও দূরদর্শিতা। আর এই পরিবেশ তৈরির পেছনে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লার ভূমিকার কথা নতুন করে উঠে এসেছে।

টিনের ঘর থেকে আলোর পাঠশালা

একসময় সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ ছিল খুব বেশি পরিচিত কোনো প্রতিষ্ঠান নয়। ছিল সীমিত সুযোগ-সুবিধা, সীমিত পরিসর। কিন্তু স্বপ্ন ছিল বড়। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা এবং প্রতিষ্ঠানের একদল নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক দিনরাত পরিশ্রম শুরু করেন।

শুধু শ্রেণিকক্ষের পাঠদানেই থেমে থাকেননি তারা। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অগ্রগতি জানতে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ছুটে গেছেন তাদের বাড়ি বাড়ি। অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেছেন, শিক্ষার্থীদের দিয়েছেন পরামর্শ ও উৎসাহ। একজন শিক্ষার্থীর ভালো ফলাফলের পেছনে যেমন প্রয়োজন শিক্ষক ও অভিভাবকের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, তেমনি প্রয়োজন সঠিক নেতৃত্ব—এই বিষয়টিকে সামনে রেখেই এগিয়েছেন তারা।

অবশেষে সেই শ্রমের ফল আসতে শুরু করে। ধারাবাহিক ভালো ফলাফল, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশের কারণে ধীরে ধীরে শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিচিতি পেতে শুরু করে দেশজুড়ে।

যোগ্যতাকে প্রাধান্য দিয়ে শিক্ষক নিয়োগ

একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাণ তার শিক্ষক। এই বিশ্বাস থেকেই শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে সততা, নিষ্ঠা ও যোগ্যতাকে গুরুত্ব দিয়েছেন ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা—এমনটাই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

তদবির কিংবা চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক বেছে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। পরে সেই শিক্ষকদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতার মাধ্যমে গড়ে তোলা হয়েছে এমন একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ, যেখানে জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আর সেই পথচলার ফলেই সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ আজ অনেকের কাছে একটি আলোকিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম।

একটি প্রতিষ্ঠান থেকে বদলে গেছে পুরো এলাকার চিত্র

ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লার উদ্যোগ শুধু একটি স্কুল-কলেজের উন্নয়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। তাঁর হাত ধরে গড়ে উঠেছে আরও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যার মধ্যে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ অন্যতম।

শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল, শিক্ষার মানোন্নয়ন, খেলাধুলা ও বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে প্রতিষ্ঠানটি অল্প সময়েই সুনাম অর্জন করছে। এর প্রভাব পড়েছে আশপাশের এলাকাতেও।

কোনাপাড়া, মাতুয়াইল ও এর আশপাশের এলাকায় গড়ে উঠেছে বিভিন্ন শিক্ষা, বাণিজ্যিক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান। তৈরি হয়েছে নতুন নতুন ভবন, মার্কেট ও কর্মসংস্থানের সুযোগ। ফলে শুধু শিক্ষাক্ষেত্রেই নয়, স্থানীয় অর্থনীতি ও সামাজিক পরিবেশেও এসেছে পরিবর্তনের ছোঁয়া।

সাফল্য দেখতে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আগ্রহ

সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের শিক্ষা ও অবকাঠামোগত অগ্রগতি নিয়ে দেশের বাইরেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের প্রতিষ্ঠান দুটির কার্যক্রম ও সাফল্য দেখতে আসার কথাও জানা যায়।

একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য যখন দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আগ্রহ তৈরি করে, তখন সেটি শুধু প্রতিষ্ঠানের নয়—পুরো এলাকার জন্যই গর্বের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

একজন শিক্ষক নন, পরিবর্তনের স্বপ্নদ্রষ্টা

ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লার গল্প তাই কেবল একজন শিক্ষকের সাফল্যের গল্প নয়। এটি একজন স্বপ্নবান মানুষের গল্প—যিনি বিশ্বাস করেছেন, শিক্ষা পারে মানুষকে বদলাতে, আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পারে একটি সমাজের চেহারা পাল্টে দিতে।

একটি টিনের স্কুল থেকে আজকের আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—এই দীর্ঘ যাত্রায় রয়েছে অসংখ্য মানুষের শ্রম। তবে সেই শ্রমকে একটি লক্ষ্য ও স্বপ্নের পথে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লার ভূমিকা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ।

তাঁর হাত ধরে যে আলোর যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেই আলো আজ ছড়িয়ে পড়ছে শিক্ষার্থী, পরিবার, সমাজ এবং বৃহত্তর এলাকায়।

তাই ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা শুধু একজন সফল শিক্ষানুরাগী নন; তিনি একটি পরিবর্তনের প্রতীক, একজন স্বপ্নদ্রষ্টা এবং সমাজকে আলোকিত করার নিরলস যাত্রার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!