বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ঐতিহাসিক পতিসর রবীন্দ্র কাছারি বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রবীন্দ্র স্মরণানুষ্ঠান’। শুক্রবার ৭ আগস্ট বিকেলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কবিগুরুর জীবন, কর্ম এবং পতিসরের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন একুশে পরিষদ নওগাঁ। এতে সার্বিক সহযোগিতা করে জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, নজরুল সংগীত শিল্পী পরিষদ, রবীন্দ্র-নজরুল সাংস্কৃতিক পরিষদ, সুরনন্দন সংগীত নিকেতন, সপ্তক সংগীত বিদ্যালয় এবং শেকড় সংস্কৃতি নওগাঁ।
স্মরণানুষ্ঠানে আলোচনা সভা ও সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে কবিগুরুর সাহিত্য, সমাজভাবনা এবং পতিসরের সঙ্গে তাঁর ঐতিহাসিক সম্পৃক্ততার নানা দিক তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জয়ব্রত পাল, একুশে পরিষদ নওগাঁর সভাপতি ডি. এম. আব্দুল বারী, পতিসর রবীন্দ্র গবেষক মতিউর রহমান, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী ফারুক বক্সসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
আলোচকরা বলেন, নওগাঁর আত্রাই নদীর তীরে অবস্থিত পতিসর কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক স্থান। ১৮৯১ সালে তিনি প্রথম এখানে এসে ‘চিত্রা’, ‘সন্ধ্যা’ এবং ‘আমাদের ছোট নদী’সহ একাধিক কালজয়ী সাহিত্যকর্ম রচনা করেন। স্থানীয় কৃষকদের মহাজনি ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত করতে ১৯০৫ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘ট্যাগোর অ্যাগ্রিকালচারাল ব্যাংক’, যেখানে নোবেল পুরস্কারের প্রাপ্ত অর্থের একটি অংশও বিনিয়োগ করেছিলেন। পাশাপাশি শিক্ষার প্রসারে রথীন্দ্রনাথের নামে বিদ্যালয়, দাতব্য চিকিৎসালয় এবং বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা করতে একাধিক পাতকুয়া খননের উদ্যোগ নেন।
বক্তারা আরও বলেন, কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক পতিসর রবীন্দ্র কাছারি বাড়ি যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং পতিসরকে একটি পূর্ণাঙ্গ রবীন্দ্র গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।