নরসিংদী মনোহরদী প্রতিনিধি:
নরসিংদীর মনোহরদীতে আট বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে নির্জন স্থানে নিয়ে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মো. সোহরাব (২০) নামে এক মক্তব শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ।
গত ৪ নভেম্বরের ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুটির মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে আটক করা হয়। আটক সোহরাব উপজেলার চালাকচর ইউনিয়নের হাফিজপুর এলাকার আবুল হাসেমের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি মক্তবে শিক্ষকতা করতেন।
পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শিশুটি স্থানীয় একটি ব্রিলিয়ান্ট ক্যাডেট স্কুলের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পাশাপাশি প্রতিদিন সকালে আরবি পড়ার জন্য স্থানীয় একটি মক্তবে যাতায়াত করত। এ সময় মক্তবের শিক্ষক সোহরাব বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটির সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলার চেষ্টা করতেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৪ নভেম্বর ২০২৬ সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে শিশুটি প্রতিদিনের মতো মক্তবে যায়। পড়া শেষে মক্তবের মাসিক বেতন আনার কথা বলে শিক্ষক সোহরাব তাকে বাড়িতে পাঠান। পরে সকাল ৭টার দিকে বেতন নিয়ে মক্তবে ফেরার পথে চালাকচর ইউনিয়নের হাফিজপুর এলাকায় আল আমিন নামে এক ব্যক্তির নির্মাণাধীন একটি পরিত্যক্ত ঘরে শিশুটির পথরোধ করেন অভিযুক্ত শিক্ষক।
এ সময় শিশুটিকে জোরপূর্বক জাপটে ধরে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়া এবং পরনের হাফপ্যান্ট খুলে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ করা হয়েছে। শিশুটি চিৎকার করে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটিকে বাড়ি থেকে বাজারের ব্যাগ আনার কথা বললে সেই সুযোগে শিশুটি দৌড়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর শিশুটি পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন শিশুটির মা। এ কারণে অভিযোগ দায়েরে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশাহ জানান, শিশু শিক্ষার্থীকে কুপ্রস্তাব দেওয়া ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে মো. সোহরাবকে আটক করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগটি নথিভুক্ত করে তাঁকে নরসিংদীর বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।