কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে শাকিলুর রহমান (৪৫) নামের এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। গত সোমবার (২ নভেম্বর) পৌর এলকার কুন্ডুপাড়ার একটি প্রাইভেট পড়ার কক্ষে এই শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটে। এঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কুমারখালী থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত শিক্ষক শাকিলুর রহমান (৪৫) পৌর এলাকার ‘কুমারখালী সরকারি পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ এর সহকারী শিক্ষক (গণিত বিষয়)।
জানা যায়, গত সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে পৌর এলকার কুন্ডুপাড়ার একটি বাসায় প্রাইভেট পড়া শেষে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে একা পেয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জড়িয়ে ধরে শরীরের আপত্তিকর জায়গায় স্পর্শ করেন। সে সময় ওই শিক্ষার্থী অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে দৌড়ে প্রাইভেট কক্ষ থেকে বের হয়ে বাড়িতে ফিরে তার মা সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কাছে ঘটনার বর্ণনা করেন।
এবিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক শাকিলুর রহমান জানান, অভিযোগকারী শিক্ষার্থী তার কাছে প্রাইভেট পড়তো, তবে সে অনিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন। এর আগে সে মাঝে মাঝে আসতো আবার মাঝে মাঝে আসতো না। এরপর সে হঠাৎ গত সোমবার (২ নভেম্বর) আবার প্রাইভেট পড়তে আসে। তার অনিয়মিত প্রাইভেটে আসা ও বকেয়া বেতনের কারণে তাকে কিছুটা রাগারাগি করা হয়। পরে সে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সাথে প্রাইভেট পড়া শেষে করে বাড়ি ফিরে যায়। এরপর তিনি জানতে পারেন তার রিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে।
এ বিষয়ে ‘কুমারখালী সরকারি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সন্তোষ কুমার মদক জানান, ঘটনার দিন শিক্ষার্থীর পরিবারের লোকজন তার নিকট আসলে তিনি একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়ার বিষয়ে জানান। কিন্তু তারা কোন অভিযোগ না দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে যায়।
তিনি আরও জানান, ওই দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা মোতাবেক সহকারী শিক্ষক শাকিলুর রহমানকে বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম থেকে অব্যহতি প্রদান করা হয়।
এবিষয়ে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাইসুল ইসলাম জানান, ঘটনার দিন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার কার্যালয়ে আসেন এবং ঘটনার বিস্তারিত বলেন। পরে তিনি বিদ্যালয়ের দায়িত্বরত প্রধান শিক্ষককে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষককে বিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, এবিষয়ে থানা পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের।
কুমারখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আমিরুল ইসলাম জানান, ঘটনার দিন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার মৌখিক অভিযোগ দিয়েছিলেন। সেসময় তাদেরকে লিখিত অভিযোগ অথবা এজাহার জমা দেওয়া বিষয়ে বলা হয়। কিন্তু তারা সেসময় কোন লিখিত অভিযোগ অথবা এজাহার দেননি। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত ১১ ঘটিকায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে থানায় এজাহার জমা দেন। ইতোমধ্যে মামলা রুজু হয়েছে এবং অভিযুক্তকে আটকের বিষয়ে পুলিশ তৎপর রয়েছে।