সাভারে পৃথক দুটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৯৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তর বিভাগ। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে সাভার মডেল থানা এলাকার জাহাঙ্গীরনগর সোসাইটি ও ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ঢাকা জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর) এর অফিসার ইনচার্জ সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের পৃথক দুটি দল অভিযানে অংশ নেয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয় ৩ নভেম্বর রাত ৭টা ৪০ মিনিটে সাভার মডেল থানাধীন জাহাঙ্গীরনগর সোসাইটি এলাকায়। ডিবি উত্তর বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহাদাৎ হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে তিন নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মুক্তা (২৬), রুপা আক্তার ওরফে খুশি (৩০) এবং প্রিয়াংকা (২৫)। তাঁদের প্রত্যেকের বাড়ি মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানার বিভিন্ন এলাকায়। তাঁরা বর্তমানে সাভারের জাহাঙ্গীরনগর সোসাইটির ভিপি জাহাঙ্গীরের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ১৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবার ওজন ১৫ গ্রাম এবং আনুমানিক বাজারমূল্য ৪৫ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।
অন্যদিকে, একই দিন রাত ১১টা ১০ মিনিটে সাভার মডেল থানাধীন ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দ্বিতীয় অভিযান পরিচালনা করা হয়। ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রাশেদ মিয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—প্রদীপ সরকার (২৮) ও রিপন রাজবংশী (৩২)। প্রদীপ সরকারের বাড়ি সাভারের পানপাড়া এলাকায় এবং রিপন রাজবংশীর বাড়ি রাজফুলবাড়িয়া এলাকায়।
পুলিশ জানায়, তাঁদের কাছ থেকে ৪৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ইয়াবার ওজন ৪ দশমিক ৭ গ্রাম এবং আনুমানিক বাজারমূল্য ১৪ হাজার ১০০ টাকা।
ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার প্রদীপ সরকারের বিরুদ্ধে এর আগে মাদকসংক্রান্ত চারটি মামলা রয়েছে।
দুটি অভিযানে সর্বমোট ১৯৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫৯ হাজার ১০০ টাকা।
গ্রেপ্তার পাঁচজনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সাভার এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।