মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

সীতাকুণ্ডে লরির ধাক্কায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিহত, মহাসড়ক ও রেললাইন অবরোধ

মোঃ মিজানুর রহমান
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:০৫ pm
৩১
সীতাকুণ্ডে লরির ধাক্কায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিহত, মহাসড়ক ও রেললাইন অবরোধ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মিনিবাসে কনটেইনারবাহী লরির ধাক্কায় মাইশা (২১) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অপর এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ মিনিবাসের অন্তত ১০ যাত্রী আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেললাইন অবরোধ করেন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মাইশা চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বড়তাকিয়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি সাখাওয়াত হোসেন ও সালমা আক্তারের মেয়ে এবং আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকামুখী একটি কনটেইনারবাহী লরি বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট এলাকা অতিক্রম করার সময় সামনে থাকা একটি প্রাইভেট কার হঠাৎ উল্টো দিকে মোড় নেয়। এ সময় প্রাইভেট কারটিকে রক্ষা করতে গিয়ে দ্রুতগতির লরিটি মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ঢাকামুখী ৮ নম্বর পরিবহনের একটি মিনিবাসকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে লরিটি মহাসড়কে উল্টে যায়।

দুর্ঘটনার সময় বাস থেকে নামা দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী লরির নিচে চাপা পড়েন। এ ছাড়া বাসের ভেতরে থাকা আরও ৮ থেকে ১০ জন যাত্রী আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান। সেখানে জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর চিকিৎসক মাইশাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোস্তফা মনির চৌধুরী জানান, দুর্ঘটনায় তাঁদের দুই শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাঁরা দুজনই ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে মাইশাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল আলম আশেকও মাইশার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেললাইন অবরোধ করেন। এতে ঢাকামুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং চট্টগ্রামমুখী সড়কেও দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

বার আউলিয়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সার্জেন্ট শফিউল ইসলাম শুভ দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনাকবলিত লরি ও ক্ষতিগ্রস্ত মিনিবাসটি উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে নিহত শিক্ষার্থীর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

শিক্ষার্থীদের অবরোধের বিষয়ে তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে কাজ করছে।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!