মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

​পঞ্চগড়ে অ্যান্টিবায়োটিকযুক্ত অসুস্থ গরুর মাংস মাটিতে পুঁতে ধ্বংস করল প্রাণিসম্পদ বিভাগ

নিতিশ চন্দ্র বর্মন
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:১৭ pm
১৫
​পঞ্চগড়ে অ্যান্টিবায়োটিকযুক্ত অসুস্থ গরুর মাংস মাটিতে পুঁতে ধ্বংস করল প্রাণিসম্পদ বিভাগ

​পঞ্চগড়ে অ্যান্টিবায়োটিকযুক্ত অসুস্থ গরুর মাংস মাটিতে পুঁতে ধ্বংস করল প্রাণিসম্পদ বিভাগ

​নিতিশ চন্দ্র বর্মন, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি:

​পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের খালপাড়া এলাকায় অসুস্থ একটি গরু জবাইয়ের পর প্রায় চার মণ মাংস মাটিতে পুঁতে নষ্ট করেছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গরুটিতে একাধিক ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করায় এবং নির্ধারিত উইথড্রয়াল পিরিয়ড শেষ না হওয়ায় মাংসটি মানুষের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে—এমন বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

​সোমবার (২ নভেম্বর) ভোরে গরুটি জবাই করা হয়। এর আগে গত ২৭ অক্টোবর থেকে গরুটি অসুস্থ ছিল এবং জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে সেটির চিকিৎসা চলছিল।

​জানা যায়, গরুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মালিক ও খামারি সোহেল ইসলাম সেটি জবাই করেন। বিষয়টি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নূরুল ইসলাম ও ডা. মরিয়ম রহমানের নজরে এলে তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুর রহিমকে ঘটনাস্থলে পাঠান। তিনি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে অসুস্থ ও চিকিৎসাধীন পশুর মাংস মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেন।

​পরে এফএসপি হাবিবুর রহমান এবং হাফিজাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ রবিউল ইসলামের উপস্থিতিতে মাংসগুলো গভীর গর্তে পুঁতে নষ্ট করা হয়।

​গরুর মালিক খামারি সোহেল ইসলাম বলেন, “গরুটি কয়েক দিন ধরে অসুস্থ ছিল এবং চিকিৎসাধীন ছিল। গত রাতে হঠাৎ অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ায় নিজের খাওয়ার জন্য গরুটি জবাই করেছি। বিক্রির কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।”

​স্থানীয় পশু চিকিৎসক ও এআই টেকনিশিয়ান তফিজুল ইসলাম বলেন, “গতকাল বিকেলেও আমি গরুটিকে স্যালাইন দিয়ে এসেছি। আজ ভোরে গরুর মালিক আমাকে ফোন করেছিলেন। তবে গরুটি জবাই করার বিষয়ে আমার কাছে কোনো পরামর্শ নেননি।”

​স্থানীয় মাংস বিক্রেতা আব্দুল মালেক জানান, সকালের দিকে তাঁকে ফোন করা হলেও অসুস্থ গরু হওয়ায় তিনি সেটি কিনতে রাজি হননি। পরে জানতে পারেন মালিক নিজেই গরুটি জবাই করেছেন এবং তাঁর লোকজন গিয়ে চামড়া ছাড়িয়ে দিয়েছেন।

​উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুর রহিম বলেন, “ঘটনাস্থলে গিয়ে গরুটির অসুস্থতা ও চিকিৎসার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় একাধিক ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করায় নির্ধারিত প্রত্যাহারকাল শেষ হওয়ার আগে এ ধরনের পশুর মাংস খাওয়া নিরাপদ কি না, তা নিয়ে গুরুতর ঝুঁকি ছিল। তাই সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে মাংসগুলো মাটিতে পুঁতে নষ্ট করা হয়।”

​জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কোনো পশু অসুস্থ হলে কিংবা চিকিৎসাধীন অবস্থায় জবাইয়ের প্রয়োজন দেখা দিলে মালিকের উচিত অবশ্যই প্রাণিসম্পদ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে ওষুধের নির্ধারিত প্রত্যাহারকাল অনুসরণ করতে হবে, অন্যথায় মাংসে ওষুধের অবশিষ্টাংশ থেকে মানবস্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। অসুস্থ পশু জবাই করে নিজে খাওয়া বা বাজারে বিক্রি করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

​

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!