মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

মাদকাসক্ত ছেলের প্রাণনাশের হুমকি, নাতিকে নিয়ে ঘরছাড়া মা

মোঃ আসাদুজ্জামান খোকন ভূরুঙ্গামারী প্রতিনিধি
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:০৭ pm
১৭
মাদকাসক্ত ছেলের প্রাণনাশের হুমকি, নাতিকে নিয়ে ঘরছাড়া মা

প্রাণ বাঁচাতে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন নাসিমা বেওয়া

ভূরুঙ্গামারীতে মাদক মামলায় পাঁচ মাস কারাভোগের পর বাড়ি ফিরে মাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছেলে রাজু মিয়ার (২২) বিরুদ্ধে। ছেলের ভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে সাত বছরের নাতিকে নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন মা নাসিমা বেওয়া (৪৭)। নিজের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ঘুরেও দিশা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ তাঁর।

নাসিমা বেওয়া ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের কামাতআঙ্গারীয়া গ্রামের দফাদারপাড়ার মৃত হবিবর রহমানের স্ত্রী। স্বামীর মৃত্যুর পর বড় ছেলে রাজু, তার স্ত্রী, নাতি মিনহাজ (৭) ও ছোট ছেলে লিমনকে (১৮) নিয়ে একই বাড়িতে বসবাস করতেন তিনি।

পরিবারের অভিযোগ, রাজু মাদকাসক্ত হয়ে পড়ার পর মাদকের টাকার জন্য মায়ের ওপর নির্যাতন চালাতেন। এমনকি ঘরের জিনিসপত্রও বিক্রি করে দিতেন। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রায় এক বছর আগে রাজুর স্ত্রী সন্তান ও স্বামীকে রেখে ঢাকায় চলে যান।

গত ২ জুন ২০২৬ তারিখে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল হক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে রাজুকে ১০০ টাকা জরিমানা ও পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেন। রাজু কারাগারে যাওয়ার পর ভয়ে ছোট ছেলে লিমনও ঢাকায় চলে যান।

পাঁচ মাস কারাভোগের পর গত রোববার (১ নভেম্বর) মুক্তি পেয়েই মুঠোফোনে মাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন রাজু—এমন অভিযোগ নাসিমা বেওয়ার। প্রাণভয়ে ওই দিনই নাতি মিনহাজকে নিয়ে বাবার বাড়ি পাইকেরছড়ায় আশ্রয় নেন তিনি। এদিকে বাড়িতে ফিরে রাজু ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেন এবং মাকে খুঁজতে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

রোববার রাতে থানায় গিয়ে নিজের নিরাপত্তা চান নাসিমা। পরে সোমবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে প্রাণ বাঁচানোর আকুতি জানান তিনি।

নাসিমা বেওয়া বলেন, ‘আমি বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। থানায় গিয়েছিলাম, তারা ইউএনওর কাছে যেতে বলেছে। ইউএনওর কাছে আসার পর আবার থানায় যেতে বলেছেন। রাজু আমাকে দেখলে মেরে ফেলবে। আমি আমার প্রাণ বাঁচাতে চাই।’

সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল লতিফ বলেন, খবর পেয়ে রোববার রাতে তিনি ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন। কিন্তু রাজু কারও কথা শুনতে চাননি। তিনি মাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছেন এবং ঘরের তালা ও বেড়া ভেঙে ফেলেছেন। মাঝেমধ্যে আত্মহত্যার হুমকিও দিচ্ছেন বলে জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেব নাথ বলেন, অভিযোগকারী নারী তাঁর কাছে এসেছিলেন। তাঁকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, নাসিমা বেওয়া থানায় এসেছিলেন কি না, তা তাঁর জানা নেই। কারণ, তিনি তখন আদালতে ছিলেন। তিনি থানায় এলে অভিযোগের ভিত্তিতে জিডি করা হবে।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!