ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঢাকার শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়া। একই দাবিতে আজও বিভিন্ন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও কর্মসূচি পালন করেছেন। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে সাভারের হেমায়েতপুরে একটি পোশাক কারখানায় হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
শিল্প পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে সকাল থেকেই সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। একপর্যায়ে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা কর্মস্থল থেকে বেরিয়ে এসে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেশ কয়েকটি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে মালিকপক্ষ।
শিল্প পুলিশের তথ্যমতে, দুপুরের দিকে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় অবস্থিত একেএইচ গার্মেন্টসে একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালায়। এ সময় তারা কারখানার ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। কারখানার বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি সেখানে থাকা যানবাহনেও ভাঙচুর করা হয়। একপর্যায়ে কারখানার প্রধান ফটকে আগুন ধরিয়ে দেয় হামলাকারীরা।
এ ঘটনায় কারখানাটিতে কর্মরত ও সংশ্লিষ্ট অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কারখানাটিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা দেখা দেয়।
অন্যদিকে একই দাবিতে আশুলিয়ার বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর মহাসড়কে বিক্ষোভ করেন বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে নিজেদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন। এতে ওই এলাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। পরে শিল্প পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে কারখানার ফটক ও মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেন।
এ ছাড়া ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কেও অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন শ্রমিকরা। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন চালকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিকে কেন্দ্র করে একের পর এক বিক্ষোভ, কারখানায় হামলা ও সড়ক অবরোধের ঘটনায় পুরো শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
শিল্পাঞ্চলে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ও সহিংসতা এড়াতে বিভিন্ন পোশাক কারখানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও শিল্পকারখানার আশপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।
শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। তবে শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিকে কেন্দ্র করে চলমান অসন্তোষের কারণে সাভার ও আশুলিয়ার তৈরি পোশাক শিল্পে অস্থিরতা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কার্যকর উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।