সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

কোনো নোটিশ ছাড়াই উখিয়ার বালুখালীতে উচ্ছেদ অভিযানের অভিযোগ : ৩-৪টি দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়ায় ৫০ লক্ষ টাকার ক্ষতির দাবি দোকান কর্তৃপক্ষের।

মো গিয়াস উদ্দীন
রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৭ pm
৮৪
কোনো নোটিশ ছাড়াই উখিয়ার বালুখালীতে উচ্ছেদ অভিযানের অভিযোগ :  ৩-৪টি দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়ায় ৫০ লক্ষ টাকার ক্ষতির দাবি দোকান কর্তৃপক্ষের।
এসিল্যান্ড,রেইন্জ কর্মকর্তা,মালিকপক্ষ,দোকান ভাড়াটিয়ার ছবি।

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নে বনবিভাগের (পিএফ) জায়গা উচ্ছেদের নামে একটি নির্দিষ্ট অংশের দোকানপাট কোনো প্রকার নোটিশ ছাড়াই ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জমির মালিকদের দাবি, কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ না দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কেবল 'পশ্চিম জোতের মাথাঘিলা' এলাকার ৩-৪টি দোকানঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

উচ্ছেদ হওয়া দোকানদাররা জানান, তারা জমির মালিকের কাছ থেকে নিয়ম অনুযায়ী দোকান ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছিলেন। উচ্ছেদ অভিযানের আগে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসি ল্যান্ড কার্যালয় কিংবা বনবিভাগ থেকে তাদের কোনো প্রকার সতর্কবার্তা বা নোটিশ দেওয়া হয়নি। হঠাৎ দোকান ভেঙে দেওয়ায় তারা মালামাল সরানোর সুযোগটুকুও পাননি। মুদি দোকানসহ অন্যান্য দোকানের মালামাল নষ্ট ও লুটপাট হওয়ায় তারা এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—আশেপাশের বিশাল এলাকা জুড়ে বনবিভাগের (পিএফ) জায়গা থাকলেও, অন্য কোথাও না গিয়ে ঠিক এই নির্দিষ্ট অংশটিতেই কেন হঠাৎ উচ্ছেদ চালানো হলো?

মরহুম বুদরুজ মেম্বারের ছেলে অ্যাডভোকেট একলাছুর রহমান দাবি করেন, এই অভিযান সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও সন্দেহজনক। তিনি বলেন, "আমার দাদা এই এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসা এবং প্রাইমারি স্কুলের জন্য বিপুল পরিমাণ জমি বিনা পয়সায় দান করেছেন। রাস্তার পাশে আমাদের যে জায়গাটিতে দোকান ছিল, সেটি খতিয়ানভুক্ত নিজস্ব জায়গা। এর পেছনের অংশটি মাথাঘিলা পিএফ (প্রস্তাবিত সংরক্ষিত বন)। দুই পাশেই বনবিভাগের জায়গা থাকা সত্ত্বেও অন্য কোথাও উচ্ছেদ না করে সরাসরি আমাদের খতিয়ানভুক্ত জায়গায় পিছনে উচ্ছেদ চালানো রহস্যজনক। সাধারণ মানুষও এই বৈষম্যমূলক অভিযানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।"

জায়গার মালিক অ্যাডভোকেট একলাছুর রহমান আরও বলেন, "আমাদেরকে বা ভাড়াটিয়াদের কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ দেওয়া হয়নি। উচ্ছেদকারী কর্তৃপক্ষ কোনো ইজারাদারকে জানিয়েছে কি না তাও আমাদের জানা নেই। তারা আমাদের এই ব্যাপারে কোনো কিছুই অবহিত করেনি। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এখন আমাদের যে ভাড়াটিয়াদের বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হলো, এটা নিয়ে প্রশাসন কী করবে তা আমার বোধগম্য নয়।"

বনবিভাগের জায়গা স্থানীয় চেয়ারম্যান বা এসি ল্যান্ড নিলাম বা বরাদ্দ দিতে পারেন কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, "বাজার উচ্ছেদ হওয়ার পর যারা আগে এখানে দখলদার বা ব্যবসায়ী ছিলেন, পুনরায় বাজার বসলে তাদেরকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হবে।" তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এটি মূলত ফরেস্ট বা বনবিভাগের জায়গা, তাই এখানে ইউনিয়ন পরিষদের সরাসরি কোনো এখতিয়ার নেই।

উচ্ছেদ অভিযান প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসার জনাব আব্দুল মান্নান বলেন, "নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবেই এখানে অভিযান চালানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বাজার ও অবৈধ দখলে থাকা বনবিভাগের জায়গাতেও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।" তবে পরবর্তী অভিযানগুলো কোনো প্রকার পূর্ব নোটিশ ছাড়া হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো জবাব দেননি। তিনি শুধু জানান, এসি ল্যান্ড মহোদয় সকালে তাদেরকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

কোনো ধরনের খাস জমি না থাকা সত্ত্বেও খতিয়ানভুক্ত জায়গার লাগোয়া মাথাঘিলা এলাকায় এই ধরনের অভিযান চালানোয় সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আকস্মিক এই উচ্ছেদে সর্বস্ব হারানো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনের কাছে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!