রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

টেস্ট ফেল করেও অভিভাবকের অঙ্গীকারনামা ও সুপারিশে পরীক্ষা, উখিয়া কলেজে ডুবল পাসের হার! কলেজের ফলাফল বিপর্যয়ের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস:

মো গিয়াস উদ্দীন
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৬ pm
৬৭
টেস্ট ফেল করেও অভিভাবকের অঙ্গীকারনামা ও সুপারিশে পরীক্ষা, উখিয়া কলেজে ডুবল পাসের হার!  কলেজের ফলাফল বিপর্যয়ের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস:

কক্সবাজারের উখিয়া কলেজের এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষায় ৪ থেকে ৫ বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন মহলের চাপ এবং অভিভাবকদের জোরপূর্বক দেওয়া ‘অঙ্গীকারনামা’র মাধ্যমে মূল পরীক্ষায় বসার সুযোগ করে দেওয়াই এই নজিরবিহীন ভরাডুবির মূল কারণ বলে নিশ্চিত করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এম. শাহ আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ফলাফল বিপর্যয়ের মূল কারণ প্রকাশ করেছেন।

কলেজ সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা যায়, এইচএসসির নির্বাচনী পরীক্ষায় নিয়মিত পড়াশোনা করে কলেজ থেকে প্রকৃতপক্ষে পাস করেছিল মাত্র ২২০ জন শিক্ষার্থী। নিয়ম অনুযায়ী কেবল তাদেরই মূল বোর্ডে পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্বাচনী পরীক্ষায় ৪-৫ বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া পরীক্ষার্থীদের মূল পরীক্ষায় বসার সুযোগ করে দিতে কলেজ কর্তৃপক্ষের ওপর শুরু হয় তীব্র রাজনৈতিক চাপ ও বিভিন্ন মহলের সুপারিশ।

মহলের তদবিরের পাশাপাশি চাপের মুখে পড়ে কলেজ কর্তৃপক্ষকে একবার, দুবার নয়—পরপর তিনবার পরীক্ষা নিতে বাধ্য করা হয়। এরপরও যারা পাস করতে পারেনি, তাদের মূল পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন অভিভাবকেরা। শেষ পর্যন্ত ২৮২ জন অভিভাবক লিখিত ‘অঙ্গীকারনামা’ (মুচলেকা) জমা দেন যে, মূল পরীক্ষায় তাদের সন্তানেরা অবশ্যই পাস করবে।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এম. শাহ আলম জানান, "বিভিন্ন মহলের তীব্র তদবির, সুপারিশ এবং ২৮২ জন অভিভাবকের লিখিত অঙ্গীকারনামার কারণেই বাধ্য হয়ে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সুযোগ করে দিতে হয়েছিল।" ফলে প্রকৃত পাস করা ২২০ জনের স্থলে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৫০২ জন।

ফলাফলে নির্মম বাস্তবতা ও সুনামের ক্ষতি:

সম্প্রতি এইচএসসি পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, ৫০২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে সর্বসাকুল্যে পাস করেছে মাত্র ১৪৪ জন। অর্থাৎ, অভিভাবকদের ‘পাস করবে’ মর্মে দেওয়া অঙ্গীকারনামা সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে এবং তদবির করে পরীক্ষা দেওয়া ২৮২ জন শিক্ষার্থীর প্রায় সবাই চূড়ান্ত পরীক্ষায় ফেল করেছে।

শিক্ষানুরাগীরা বলছেন, যদি বিভিন্ন মহলের হস্তক্ষেপ ও অভিভাবকদের এই আত্মঘাতী মুচলেকা বন্ধ থাকত এবং নিয়ম মেনে শুধু প্রকৃত পাস করা ২২০ জন পরীক্ষা দিত, তবে এই ১৪৪ জন পাস করার মাধ্যমে কলেজের পাসের হার থাকত প্রায় ৬৫ শতাংশ। কিন্তু তদবির ও অঙ্গীকারনামার জালিয়াতির কারণে সেই পাসের হার তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে, যার কারণে পুরো কলেজের বদনাম হচ্ছে।

যাদের অবহেলা আর জালিয়াতির কারণে উখিয়া কলেজের শত শত নিয়মিত শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ও ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে, এই ধরনের উপর মহলের সুপারিশ ও অঙ্গীকারনামার নোংরা সংস্কৃতি কখন বন্ধ হবে—এখন এটাই স্থানীয় সচেতন মহলের মূল প্রশ্ন।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!