রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একের পর এক ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সদস্যসচিব হিসেবে পরিচিত শান্তনুর খান শান্তর নেতৃত্বে বারবার মিছিল হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান হচ্ছে না।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ অক্টোবর শান্তনুর খান শান্তর নেতৃত্বে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ নেতাকর্মী নিয়ে ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়কে ২০ থেকে ২৫ মিনিট ধরে একটি ঝটিকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ওয়ার্ডের বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, গত ৫ আগস্টের পর থেকে শান্তনুর খান শান্তর নেতৃত্বে এ পর্যন্ত প্রায় ২০ থেকে ২৫টি ঝটিকা মিছিল ও কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এসব কর্মসূচির অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মিছিল শেষ হওয়ার পর নেতাকর্মীরা নিরাপদে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে সক্ষম হন।
অভিযোগ রয়েছে, মিছিল শেষ হওয়ার পর যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ সংশ্লিষ্ট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করলেও কাউকে আটক করতে পারেনি। পূর্ববর্তী মিছিলগুলোর ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য কোনো গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি বলে দাবি স্থানীয়দের।
এদিকে, বিভিন্ন সূত্রের দাবি, মিছিলের পর শান্তনুর খান শান্ত বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে ব্যক্তিগত খরচে কুয়াকাটার বিভিন্ন রিসোর্টে অবস্থান করেন। তবে এ তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আরও অভিযোগ রয়েছে, মিছিলের আগে বিভিন্ন মাধ্যমে থানা পুলিশের অবস্থান ও গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে কর্মসূচি পরিচালনা করেন সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা। ফলে পুলিশের অভিযান শুরুর আগেই তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে সক্ষম হন বলে দাবি সূত্রগুলোর।
পরপর একাধিক ঝটিকা মিছিলের ঘটনা ঘটলেও কেন সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশের ভূমিকা, গোয়েন্দা নজরদারি এবং এসব কর্মসূচি প্রতিরোধে প্রশাসনের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—একই এলাকায় বারবার ঝটিকা মিছিলের ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কেন আগাম তথ্যের ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না?
এ বিষয়ে যাত্রাবাড়ী থানা অফিসার ইনচার্জ আহমেদ রাজু ফোনে জেএ টিভিকে বলেন এ বিষয়ে পুলিশ কাজ করছে পরবর্তীতে আপডেট জানানো হবে।