অভিজিত শীল, নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি:
বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ব্যাপক উৎসবমুখর পরিবেশে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় ১৭টি পূজা মণ্ডপ পরিচালন কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে একই সময়ে সবকটি প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।
বুধবার (বিজয়া দশমী উপলক্ষে) উপজেলার কসবা ইউনিয়নের সোনাইচণ্ডী হাট সংলগ্ন মন্দিরে সকাল থেকেই ছিল ভক্ত ও দর্শনার্থীদের চোখে পড়ার মতো ভিড়। বিসর্জনের শেষ মুহূর্তে হাটের অন্যান্য কেনাবেচার ভিড় উপেক্ষা করে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ ও দর্শনার্থীদের ঢল নামে দেবী দুর্গার শেষ দর্শন ও শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। আর্দ্র চোখে আনন্দ ও বিদায়ের সুর মিলিয়ে তারা মা দুর্গাকে বিদায় জানান।
সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দিনভর তৎপর ছিল স্থানীয় প্রশাসন। সন্ধ্যা পর্যন্ত বিসর্জনস্থল ও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে সরজমিনে উপস্থিত ছিলেন নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রিয়াংকা দাস, নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ এবং কসবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকারিয়া আল মেহরাব।
এছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে সার্বক্ষণিক তদারকিতে নিয়োজিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশ, আনসার, গ্রাম পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যরা। পুরো জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যেন ব্যাঘাত না ঘটে, সে লক্ষ্যে জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোঃ মুসা জঙ্গী এবং পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস প্রতিটি মণ্ডপের সার্বক্ষণিক মনিটরিং নিশ্চিত করেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় উপজেলার ১৭টি পূজা মণ্ডপের কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রিয়াংকা দাস বলেন, চলতি বছর উপজেলার ১৭টি পূজা মণ্ডপেই সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনসহ কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পুলিশ, ওয়ার্ড সদস্য, গ্রাম পুলিশ, আনসার ও স্বেচ্ছাসেবক বৃন্দ দিনরাত অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। সবার আন্তরিকতায় উৎসবটি শতভাগ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।