ঢাকার সাভারে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ডাকাতি ও ছিনতাইকারী দলের সদস্য হিসেবে সন্দেহভাজন তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), উত্তর। বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে সাভার মডেল থানাধীন তেঁতুলঝোড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার দক্ষিণ ধল্লা এলাকার মৃত সেলিম মোল্লার ছেলে মোঃ মনির মোল্লা (৪২), বিন্নাডাঙ্গী এলাকার মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে মোঃ শহিদুল ইসলাম ওরফে বাবু (৩৫) এবং ধল্লা লক্ষ্মীপুর এলাকার জাকির হোসেনের ছেলে মোঃ নাজমুল হাসান (২৩)।
ঢাকা জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি, ছিনতাইসহ নানা ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় চলমান এ অভিযানের অংশ হিসেবে সাভারের তেঁতুলঝড়া এলাকায় অভিযান চালায় ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তর বিভাগ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ডিবি উত্তরের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে এবং উপপরিদর্শক (এসআই) মোঃ আবদুল মুত্তালিবের সমন্বয়ে পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় পুলিশের অন্যান্য সদস্যও অভিযানে অংশ নেন।
অভিযানের একপর্যায়ে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তাঁদের অপরাধসংক্রান্ত অতীত রেকর্ড যাচাই করা হয়।
এ ক্ষেত্রে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পিসিপিআর (পূর্ববর্তী অপরাধ ও মামলাসংক্রান্ত রেকর্ড) পর্যালোচনা করে পুলিশ। এতে মনির মোল্লার বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত একটি মামলাসহ মোট দুটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। অপর মামলাটি অন্যান্য অপরাধসংক্রান্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অতীতে থাকা মামলার তথ্য পাওয়া গেলেই সংশ্লিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। প্রতিটি মামলার অভিযোগের নিষ্পত্তি আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়ে থাকে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার তিনজনকে ডাকাতির প্রস্তুতি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পরে তাঁদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অপরাধ দমনে ঢাকা জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধপ্রবণ এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং অপরাধে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
সাভারসহ ঢাকা জেলার বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি ও ছিনতাই প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে।