মোঃ ফরিদ হোসেন, গাজীপুর প্রতিনিধি
দস্যুতা, ডাকাতির প্রস্তুতি ও জিএমপি অধ্যাদেশের মামলায় আটক ব্যক্তিদের আদালতে প্রেরণ
গাজীপুর মহানগর: গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) বাসন থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন মামলার তদন্তে সন্দেহভাজন আসামি ও জিএমপি অধ্যাদেশের মামলাসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর ২০২৬) পরিচালিত এ বিশেষ অভিযানে তাঁদের গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেছে বাসন থানা পুলিশ।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দস্যুতা মামলার তদন্তে সন্দেহভাজন একজন, ডাকাতির প্রস্তুতি মামলার তদন্তে সন্দেহভাজন ছয়জন এবং জিএমপি অধ্যাদেশের মামলায় দুজন রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন গাজীপুর মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তা ও আশপাশের এলাকায় অস্থায়ীভাবে বসবাস করতেন বলে দেওয়া ঠিকানায় উল্লেখ রয়েছে।
দস্যুতা মামলার তদন্তে একজন গ্রেপ্তার
দস্যুতা মামলার তদন্তে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম রফিকুল ইসলাম রাজন (৪০)। তাঁর পিতা মোঃ বিল্লাল এবং মাতা রওশন আরা বেগম। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা পশ্চিম জয়দেবপুর, থানা সদর, গাজীপুর মহানগর, গাজীপুর।
ডাকাতির প্রস্তুতি মামলার তদন্তে ছয়জন গ্রেপ্তার
ডাকাতির প্রস্তুতি মামলার তদন্তে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার ছয়জন হলেন—
১. তাইজুল ইসলাম রুমান (১৯): তাঁর পিতা আলা উদ্দিন এবং মাতা রাজিয়া খাতুন। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা সোজাখালী কান্দা, থানা পূর্বধলা, জেলা নেত্রকোনা। বর্তমানে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় অস্থায়ীভাবে বসবাস করতেন বলে উল্লেখ রয়েছে।
২. হাবিবুল্লাহ রহমান হাবিব (১৮): তাঁর পিতা আমজাদ হোসেন ওরফে হোসেন আলী, দ্বিতীয় পিতা হিসেবে রশিদের নাম উল্লেখ রয়েছে এবং মাতা মোছাঃ রাবেয়া খাতুন। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা বিয়ারা (উত্তরপাড়া), থানা কাজীপুর, জেলা সিরাজগঞ্জ। বর্তমানে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় অস্থায়ীভাবে বসবাস করতেন।
৩. মোঃ আলমগীর (২৬): তাঁর পিতা মোঃ আব্দুল সোবহান এবং মাতা মোছাঃ রোকেয়া খাতুন। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা বাতওয়ার্দী মলাপাড়া, থানা তারাকান্দা, জেলা ময়মনসিংহ। বর্তমানে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় অস্থায়ীভাবে বসবাস করতেন।
৪. মোঃ শাকিল মিয়া (২৮): তাঁর পিতা মোঃ দুলাল মিয়া এবং মাতা পারুল খাতুন। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা বানাশ্রম, মাইজবাগ বাজারসংলগ্ন এলাকা, থানা ঈশ্বরগঞ্জ, জেলা ময়মনসিংহ। বর্তমানে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় অস্থায়ীভাবে বসবাস করতেন।
৫. নোমান (৩৫): তাঁর পিতা মৃত আব্দুল খালেক এবং মাতা রেজিয়া বেগম। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা ছোট হরিপুর, থানা বুড়িচং, জেলা কুমিল্লা। বর্তমানে গাজীপুর মহানগরের পশ্চিম ভুরুলীয়া এলাকায় অস্থায়ীভাবে বসবাস করতেন বলে উল্লেখ রয়েছে।
৬. মোঃ ইমন (২০): তাঁর পিতা শহীদুল এবং মাতা সালমা। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা সদরকান্দি, থানা দাউদকান্দি, জেলা কুমিল্লা। বর্তমানে চান্দনা এলাকার বউ বাজারসংলগ্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে বসবাস করতেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উপরোক্ত ছয়জনকে ডাকাতির প্রস্তুতি মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আইনানুগ সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।
জিএমপি অধ্যাদেশের মামলায় দুজন গ্রেপ্তার
এদিকে, জিএমপি অধ্যাদেশের মামলায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে বাসন থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—
৭. মোঃ সুমন (৩২): তাঁর পিতা বরিছ উদ্দিন এবং মাতা মোমেনা। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা বাড়ীয়াখালী, থানা সদর, জেলা গাইবান্ধা। বর্তমানে গাজীপুর মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় খালেকের বাসার ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন বলে উল্লেখ রয়েছে।
৮. মোসাঃ রূপালী (২৬): তাঁর পিতা মোঃ রবিউল, মাতা খাদিজা বেগম এবং স্বামী আব্দুর রশিদ। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা কাদিয়াকান্দি, থানা সদর, জেলা গাইবান্ধা। বর্তমানে চান্দনা এলাকার বউ বাজারে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
আইনগত প্রক্রিয়ায় আদালতে প্রেরণ
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বাসন থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন মামলার তদন্তে সন্দেহভাজন আসামি ও জিএমপি অধ্যাদেশের মামলার আসামিসহ মোট নয়জনকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধসংক্রান্ত মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশের এ ধরনের অভিযান পরিচালিত হয়ে থাকে। তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আইনগতভাবে নির্দোষ বলে গণ্য করার নীতি প্রযোজ্য।